Image description

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহরে একটি চাঞ্চল্যকর ও সহিংস ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রদায়িক এই হামলার ঘটনায় এক মুসলিম রিকশাচালককে লাঞ্ছিত করেছে একদল হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থী। আক্রমণকারীরা তাকে বালুর নিচে অর্ধেক পুঁতে ফেলে এবং জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে, যা ছিল স্পষ্টত একটি হত্যা প্রচেষ্টা।



আক্রান্ত ব্যক্তি দিদার হোসেন আগরতলার অভয়নগরের বাসিন্দা। আগরতলার গাঙ্গাইল নিবেদিতা ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। পেশায় রিকশাচালক হোসেন বর্তমানে এই হামলা থেকে বেঁচে ফেরার পর চিকিৎসাধীন রয়েছেন।



আক্রমণের পর হোসেন দুর্গা চৌমুহনী আউটপোস্টে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। এজাহারে তিনি বর্ণনা করেন, আক্রমণকারীরা হঠাৎ তার পথ আটকে দেয় এবং তাকে নৃশংসভাবে মারধর করে। হোসেন বলেন, ‘‘পরবর্তীতে তারা আমাকে জোরপূর্বক বালুর স্তূপের ভেতর ঠেলে দেয় এবং হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।’’



তিনি আরও জানান যে, এই হামলায় তিনি গুরুতর শারীরিক ও মানসিক আঘাত পেয়েছেন এবং তার চিৎকারে হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে তিনি কোনোমতে প্রাণে বেঁচে যান।স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান যে, হোসেনের নাম জিজ্ঞাসা করার পর তার মুসলিম পরিচয় নিশ্চিত হয়েই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।



এই হামলার ঘটনা আগরতলায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে অনেক মানুষ প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন। কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন এবং টিপরা মোথা নেতা শাহ আলম এই বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃত্ব দেন।



গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে শাহ আলম বলেন, ‘‘অভিযোগ দায়ের করা ছাড়া পুলিশ এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কিছু করেনি। সংখ্যালঘুদের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।’’