Image description

আওয়ামী লীগ আমলে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ‘ঘনিষ্ঠ ও ক্যাশিয়ার’ হিসেবে বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী জসীম উদ্দিন আহমেদ এবার চট্টগ্রাম– ১৪ আসনে বিএনপির কাণ্ডারি। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র–জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মোট ৯টি মামলা হয়েছিল। সেই জসীমই এবার বিএনপির হয়ে সবচেয়ে বেশি নগদ অর্থ দেখিয়ে নির্বাচনি মাঠে নেমেছেন। তার ঘোষণায় নগদ টাকা রয়েছে ১৫ কোটি ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। একই সঙ্গে তার স্ত্রীরও নগদ বৈধ সঞ্চয় হিসেবে দেখানো হয়েছে ১৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

 

নির্বাচনী হলফনামায় এমন বিপুল নগদের উৎস, জমা–উত্তোলন ট্রেইল, ব্যাংকিং রেকর্ড কিংবা ব্যবসায়িক আয়ের ধারাবাহিকতার মতো মৌলিক প্রশ্নগুলোর কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। আর এখানেই তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা-বেনজীর আমলের ‘প্রভাব–আশ্রয়’ কি সত্যিই শেষ হয়নি? তার হয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি?।

 

জসীম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ-তিনি বেনজীর আহমেদের সময় বিভিন্ন ব্যবসায়িক সুবিধা পেয়েছিলেন, এমনকি ‘ক্যাশিয়ার–পর্যায়ের’ ঘনিষ্ঠতা থেকেও উপকৃত হয়েছেন। যদিও অভিযোগ প্রমাণিত নয়, কিন্তু তার সম্পদ ঘোষণার বিশাল নগদ টাকার অঙ্ক রাজনৈতিক–অর্থনৈতিক প্রশ্নকে আবার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।

 

বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের নির্ধারিত সময়ের প্রায় শেষ মুহূর্তে এসে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে জসীমকে প্রার্থী করা হয়। দক্ষিণ জেলা বিএনপির কোনো মতামত নেওয়া হয়নি বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন অনেক নেতা। জসিম উদ্দিনের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং সাবেক দুই আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও শহিদুল হকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। প্রার্থী ঘোষণার পর ফেসবুকে সেসব যৌথ ছবি, বৈঠক ও অনানুষ্ঠানিক সমাগমের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে।

 

২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। যে নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে জসিমের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর বাড্ডায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলিবর্ষণ নিয়ে দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও ছিলেন তিনি।

 

দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া আমার দেশকে বলেন, প্রথম কথা হলো দল (বিএনপি) আমাদের থেকে কোনো মতামত নেয়নি। মতামত না নিয়ে তারা প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দল হয়তো মনে করেছে, এই আসনে কর্নেল অলিকে হারাতে হলে টাকাওয়ালা ব্যক্তি দরকার। সেজন্য জসিমকে মনোনয়ন দিয়েছে। জসিম ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি। তিনি কিন্তু আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিল না। বিএনপিরও কোনো পদে ছিল না।

 

তিনি বলেন, আপনি সারাদেশে দেখেবেন, বিএনপি অনেক অন্যদলের লোকদের নমিনেশন দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় জসিমকেও নমিনেশন দিয়েছে। এখন দলের সিদ্ধান্তই বড় সিদ্ধান্ত । জসিমের পক্ষে আমরা প্রচারণায় নামবো।

 

চট্টগ্রাম– ১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। এখানে জামায়াত ও এনসিপি জোটগত সমঝোতায় এলডিপিকে আসন ছেড়েছে। বিএনপির জসীম উদ্দীন আহমেদ হলফনামায় নগদ অর্থ দেখিয়েছেন ১৫ কোটি ১ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর ১৪ লাখ ৫৭ হাজার। তার বার্ষিক আয় ২ কোটি ৪২ লাখ টাকার বেশি এবং স্থাবর–অস্থাবর সম্পদ প্রায় সাড়ে ৪০ কোটি টাকা। অপরদিকে এলডিপির ওমর ফারুক বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন এক কোটি টাকার বেশি। তার নগদ অর্থ ৬৯ লাখ এবং স্ত্রীর ৩৫ লাখ ৫৩ হাজার। স্থাবর–অস্থাবর সম্পদে তার হিসাব ৩ কোটি ১৬ লাখ এবং স্ত্রীর রয়েছে ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশি।

 

অভিযোগের বিষয়ে জসিম উদ্দিন আমার দেশকে বলেন, আমার কোনো দলীয় পরিচয় ছিল না। কোনো পদধারীও ছিলাম না। ব্যবসায়ীর স্বার্থে সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হয়েছে। সেটি নিয়ে যদি কেউ রাজনীতি করেতে চায়, করুক।