Image description
 

‘২০ বছর আগে আমার মা মারা যায়। তখন যেমনটা ব্যথা অনুভব করেছিলাম, আবার তেমনটা লাগছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ শুনে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। গত দুইটা রাত ঘুমাতে পারিনি। তাই আজ ছুটে এসেছি। ভেবেছিলাম, খালেদা জিয়ার কবরের মাটিটা একটু ছুঁয়ে দেখব। তিনি যে কবরে আছেন, সেখানকার মাটি ছুঁয়ে দেখলে কেমন অনুভব হতো, তা বুঝতে এসেছিলাম।’

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন ফাতেমা শারমিন। তিনি মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর থেকে এসেছেন।

ফাতেমা শারমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আফসোস লাগছে। ভেবেছিলাম, একবার খালেদা জিয়ার কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়াব। সৃষ্টিকর্তার কাছে ম্যাডামের জন্য দোয়া করব। কিন্তু পারলাম না। তাই এখান থেকেই দোয়া করেছি।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে আজ সকাল সকাল দলীয় অনেক নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ রাজধানীর জিয়া উদ্যানে ছুটে আসেন। কিন্তু সকালে উদ্যানের ভেতরে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি উদ্যানের সামনের সড়কেও যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

অবশ্য বেলা ১১টার দিকে জিয়া উদ্যানের সামনের সড়ক যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। দুপুর ১২টা নাগাদ জিয়া উদ্যানে খালেদা জিয়ার কবরে সাধারণ মানুষকে যেতে দেওয়া হয়।

এরপর দেশের নানা জায়গা থেকে আসা বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে যান।

দুপুর ১২টার পর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় ফাতেমা শারমিনের সঙ্গে। তিনি মন খারাপ করে বলেন, ‘সকাল সকাল গিয়েছিলাম। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষাও করেছি। কিন্তু তখন জিয়া উদ্যানের ভেতরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। তাই মুন্সিগঞ্জে ফিরে যাচ্ছি। বাইরের সড়কে দাঁড়িয়েই খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করেছি।’

বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন বলে জানান ফাতেমা শারমিন। তিনি বলেন, তার পরিবারের সদস্যরা বিএনপি সমর্থন করেন। তবে তিনি খালেদা জিয়ার টানেই তার কবর জিয়ারত করতে ছুটে এসেছিলেন।

সকাল ১০টার দিকে জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখে কথা হয় পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সভাপতি জাহিরুল ইসলামের সঙ্গে। তখন তিনি বলেন, ‘আমরা তো অভিভাবক হারিয়েছি। কবরটা জিয়ারত করে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ নিষিদ্ধ। তাই এখান থেকেই দোয়া করব।’

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কথা হয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শাফি ইসলামের সঙ্গে। তিনিও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতের জন্য এসেছিলেন। তখন শাফি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া ছিলেন অনন্য। তারেক জিয়ার নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে খালেদা জিয়ার নীতি ও আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গতকাল বিকেল পাঁচটার কিছু আগে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। এর আগে বেলা তিনটার দিকে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর জানাজা ঘিরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের ঢল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে উপচে পড়ে। ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মানুষ জানাজায় অংশ নেয়।

শীর্ষনিউজ