২০০৯ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আইলায় ঘরবাড়ি, গবাদি পশু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফাতেমা। পরে গ্রাম ছেড়ে পরিবার নিয়ে সাতক্ষীরা শহরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একটি জায়গায় আশ্রয় নেন তিনি। স্থায়ী ঠিকানার আশ্বাস মিললেও দীর্ঘদিনেও তা হয়নি।
বছরের পর বছর পাউবোর উচ্ছেদের হুমকি নিয়েই সেখানেই বসবাস করতে হচ্ছে তাকে। নিরাপদ পানির অভাব, খাদ্যসংকট আর সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে দিন কাটছে ফাতেমার।
ফাতেমার মতো সাতক্ষীরার হাজারো জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনেও দুর্যোগের ক্ষতি শেষ হয়নি। ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়ে শহরে আশ্রয় নিলেও সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে নতুন সংকট। খাদ্য, নিরাপদ পানি, বাসস্থান, কর্মসংস্থান ও শিক্ষার অনিশ্চয়তা তাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। এক সময় যাদের নিজস্ব জমি, ঘরবাড়ি ও জীবিকা ছিল, তাদের অনেকেই এখন অন্যের জমিতে কিংবা সরকারি জায়গায় বসবাস করছেন। সেই আশ্রয়টুকুও যেকোনো সময় হারানোর ভয় রয়েছে।
সাতক্ষীরা পৌরসভার জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন উদ্বেগজনক চিত্র। গবেষণায় অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর ৭৪ দশমিক ৯ শতাংশ তীব্র এবং ২৩ দশমিক ২ শতাংশ মাঝারি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। খাদ্যনিরাপদ কোনো পরিবারই পাওয়া যায়নি এই গবেষণায়।
৯০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারের ঘরে কোনো খাবার মজুত নেই। সরকারি জমিতে বসবাসকারী পরিবারগুলোর ৫৯ শতাংশ উচ্ছেদ অথবা উচ্ছেদের হুমকিতে রয়েছে। আর ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ বিদ্যালয়ের বাইরে।
বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি) ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (প্রাণ) যৌথ উদ্যোগে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। গত আগস্টের পুরো মাস সাতক্ষীরা পৌরসভার ৩৫টি অনানুষ্ঠানিক বসতির ৩৫৮টি পরিবারের ১ হাজার ৩৪১ জন সদস্যের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
গবেষণার পদ্ধতি অনুযায়ী, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৪৭টি অনানুষ্ঠানিক বসতির ৭ হাজার ৫৭৩টি জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবারের তালিকাকে ভিত্তি ধরে জরিপের কাঠামো তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ৩৫টি বসতির ৬ হাজার ২৭২টি পরিবারের নমুনা কাঠামো থেকে ৩৫৮টি পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। পরিবার নির্বাচন করা হয়েছে স্নোবল স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে। ফলে গবেষণার ফলাফল সাতক্ষীরার সব বাস্তুচ্যুত পরিবারের পরিসংখ্যানগত প্রতিনিধিত্ব করে না। তবে জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা ও সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে।
খাবার নেই, পুষ্টিও নাগালের বাইরে
গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার না পাওয়ার কারণ হিসেবে ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার টাকার অভাব এবং ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার উচ্চমূল্যের কথা জানিয়েছে। খাবার জোগাড় করতে ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার উৎপাদনশীল সম্পদ বা প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি জিনিস বিক্রি করেছে। ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ পরিবারে বড়রা কম খেয়েছেন, যাতে শিশুরা খেতে পারে।
খাদ্যের বৈচিত্র্যও অত্যন্ত সীমিত। মাছ, মাংস বা ডিম খাওয়ার হার সপ্তাহে গড়ে ১ দশমিক ৯ দিন, দুধ শূন্য দশমিক ৯ দিন এবং ফল শূন্য দশমিক ৬ দিন। অর্থাৎ শুধু খাবারের পরিমাণ নয়, প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এসব পরিবারের সদস্যরা।
দুর্যোগে সর্বস্ব হারানো মানুষের জন্য সাময়িক ত্রাণ কিংবা আইলার সময় দেওয়া ২০ হাজার টাকার সহায়তা স্থায়ী বাসস্থান নির্মাণের জন্য যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রের নীতি ও অঙ্গীকার থাকলেও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্থায়ী আবাসন, হারানো সম্পদ ও পরবর্তী জীবিকার বিষয়গুলো যথাযথভাবে মোকাবিলা করা যাচ্ছে না।—গৌরাঙ্গ নন্দী, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চের নির্বাহী পরিচালক ও চেয়ারপারসন
নিরাপদ পানির সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ৯৬ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার অন্তত আংশিকভাবে লবণাক্ত ও আয়রনযুক্ত অগভীর নলকূপের পানির ওপর নির্ভরশীল।
মাত্র ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, তাদের খাবার পানির উৎস সব সময় পাওয়া যায়। গত এক মাসে ৫০ শতাংশ পরিবারের অন্তত একজন সদস্য পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ কোনো আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা পাননি।
সাতক্ষীরাভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংস্থা ‘স্বদেশ’-এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, জলবায়ু বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সর্বস্ব হারানো বাস্তুচ্যুত মানুষ মূলত ‘নেই রাজ্যের বাসিন্দা’। তাদের ভিটেমাটি, নির্দিষ্ট ঠিকানা, খাদ্য ও পুষ্টির নিশ্চয়তা নেই। শ্যামনগর ও আশাশুনিসহ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ বারবার দুর্যোগে সহায়-সম্বল হারিয়ে সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন বসতিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু শহরে এসেও কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও পুষ্টির সংকট থেকে মুক্তি মিলছে না।
জীবিকা হারিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
বাস্তুচ্যুতির সময় ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবার গবাদি পশু বা হাঁস-মুরগি, ৬৩ দশমিক ৪ শতাংশ খাদ্য মজুত, ৪১ দশমিক ১ শতাংশ কৃষিজমি এবং ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ মাছ ধরার সরঞ্জাম হারিয়েছে। কৃষক, জেলে ও পশুপালকদের অনেকে এখন দিনমজুরি, ভ্যান-রিকশা চালানো কিংবা গৃহকর্মে যুক্ত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুতির আগের তুলনায় ৪৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ এখন কম আয় করছেন। আর ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুতির পর পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহের সক্ষমতা কমেছে।
বাসস্থান ও জীবিকার অনিশ্চয়তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্ছেদের ভয়। সরকারি জমিতে বসবাসকারী পরিবারগুলোর ৫৯ শতাংশ উচ্ছেদ অথবা উচ্ছেদের হুমকির মুখে রয়েছে। গত ১২ মাসে ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারের ঘরে পানি উঠেছে। যে পরিবার যেকোনো সময় উচ্ছেদের শিকার হতে পারে, তাদের পক্ষে ঘরবাড়ি, স্যানিটেশন কিংবা জীবিকার জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করাও কঠিন।
নিরাপদ পানির সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ৯৬ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার অন্তত আংশিকভাবে লবণাক্ত ও আয়রনযুক্ত অগভীর নলকূপের পানির ওপর নির্ভরশীল। মাত্র ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, তাদের খাবার পানির উৎস সব সময় পাওয়া যায়। গত এক মাসে ৫০ শতাংশ পরিবারের অন্তত একজন সদস্য পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চের নির্বাহী পরিচালক ও চেয়ারপারসন গৌরাঙ্গ নন্দী বলেন, দুর্যোগে সর্বস্ব হারানো মানুষের জন্য সাময়িক ত্রাণ কিংবা আইলার সময় দেওয়া ২০ হাজার টাকার সহায়তা স্থায়ী বাসস্থান নির্মাণের জন্য যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রের নীতি ও অঙ্গীকার থাকলেও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্থায়ী আবাসন, হারানো সম্পদ ও পরবর্তী জীবিকার বিষয়গুলো যথাযথভাবে মোকাবিলা করা যাচ্ছে না। বাস্তুচ্যুত মানুষ ঢাকা ছাড়াও সাতক্ষীরার মতো জেলা ও উপজেলা শহরে আশ্রয় নিচ্ছেন। অথচ তাদের সংখ্যা ও জীবিকার বিষয়ে সরকারি দপ্তরগুলোতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।
বিদ্যালয়ের বাইরে এক-তৃতীয়াংশ শিশু
বাস্তুচ্যুতির প্রভাব পড়ছে শিশুদের ভবিষ্যতের ওপরও। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ বিদ্যালয়ের বাইরে। ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের মধ্যে মাত্র ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু-কিশোরদের ৩০ শতাংশ শিশুশ্রমে যুক্ত।
ডিজাস্টার ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, উপকূলীয় দারিদ্র্যের কারণে কার্তিক-নভেম্বর মাসে অনেক শিশু পরিবারের সঙ্গে ইটভাটায় কাজ করতে চলে যায়। তারা আগাম শ্রম বিক্রি করে। এপ্রিলে ফিরে এসে বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাইলে অনেক সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের পুনরায় ভর্তি করতে চায় না। এতে তাদের শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে পরিবেশ ও জীবিকার সংকটের প্রভাব শুধু অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে বাল্যবিবাহ, শিক্ষার্থীদের হতাশা ও আত্মহত্যার মতো সামাজিক ও মানসিক সংকটও যুক্ত হচ্ছে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া এক বাস্তুচ্যুত ব্যক্তির বক্তব্যে বলা হয়েছে, ‘যেখানে থাকি, না সে জায়গাটা আমার, না যেখানে যাব সেই ঠিকানা আমি জানি, না যেখান থেকে এসেছি সেখানে ফিরে যেতে পারবো।’
নীতি আছে, বাস্তবায়নে বড় ঘাটতি
বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার নিশ্চিতে বাংলাদেশে নীতিগত অঙ্গীকারের অভাব নেই। অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্র ২০২১ এ বাস্তুচ্যুতির পরও সামাজিক ভাতা অব্যাহত রাখা, নতুন ঠিকানায় জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্রের ব্যবস্থা, বসতির মানোন্নয়ন, ভূমির মেয়াদি নিরাপত্তা, জীবিকা সহায়তা এবং কাগজপত্রের অভাবে কোনো শিশুকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না করার অঙ্গীকার রয়েছে।
এছাড়া রয়েছে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২২-২০৪২, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৩-২০৫০, বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত স্থানীয় নেতৃত্বাধীন অভিযোজনবিষয়ক জাতীয় কাঠামো ও কর্মপরিকল্পনা।
কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। গত ১২ মাসে ৭৯ দশমিক ১ শতাংশ পরিবার কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পায়নি। সরকারি আবাসন কর্মসূচিতে আবেদন করতে পেরেছে মাত্র ৩১ শতাংশ পরিবার।
জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থায়ী ঠিকানা, ভোটার নিবন্ধনের জটিলতা এবং সঠিক তথ্যের অভাবকে সহায়তা পাওয়ার প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সহায়তা না পেলে কোথায় অভিযোগ জানাতে হয়, তা জানে না ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবার। অর্থাৎ বিদ্যমান নীতিতে যেসব সুবিধার কথা বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় একটি অংশ সেগুলো থেকেই বাদ পড়ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াজেদ বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক পূর্বপ্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে। ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার সময় ৪৭টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় ৪৮ হাজার পরিবার বাঁধের ওপর আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের দেড় বছরের বেশি সময় লেগেছিল। দুর্যোগের পর তাৎক্ষণিক কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর বাজেট ও প্রস্তুতির ঘাটতিও বড় সমস্যা। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক দায়িত্বের সুনির্দিষ্ট বণ্টন এবং জলবায়ু কূটনীতিতে দক্ষ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।
সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্য়াকের (খানি) সহ-সভাপতি রেজাউল করিম সিদ্দিক বলেন, সাধারণত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা রাজধানীকেন্দ্রিক থাকে। তৃণমূল পর্যায়ে প্রকৃত পরিস্থিতি কী, তা গভীর গবেষণার মাধ্যমে তুলে আনার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে অনুমানের ওপর নির্ভর করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক ও অ-অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি চিহ্নিত করতেই এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গবেষণার ফলাফল চূড়ান্ত না হলেও এটি বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন ও সংকটের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেছে। এই চিত্রকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের করণীয় নির্ধারণেও গবেষণার তথ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন খানির সহ-সভাপতি রেজাউল করিম সিদ্দিক।