Image description

দ্বিতীয় স্ত্রী নাইমা জান্নাতকে দুই দফায় দুইবার তালাক দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ। তবে তার দাবি, দ্বিতীয় তালাক দেওয়ার পরও শরিয়ত অনুযায়ী ওই নারী এখনো তার স্ত্রী। একই সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ের আগে ওই নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক, বিয়েতে সম্মতি এবং তালাকের পেছনের পরিস্থিতি নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন তিনি।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুফতি মিসবাহ এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে নিজের বিয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘দেখেন এখানে আমি প্রথম বিয়ে করেছি ছাত্র জামানায়। আমি তখন লেখাপড়া করি। পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়েছে এবং এটা বেশিদিন টেকে নাই। পারিবারিকভাবেই আবার সেপারেশন হয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে পারিবারিকভাবে, তিনি এখনো আছেন। এখন আমার কথা হয়েছে, এখানে শরীয়ার দিক থেকে কিংবা রাষ্ট্রীয় দিক থেকে আমার অপরাধ কি?’

দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বিয়ে হতে পারে, শরীয়ার সুযোগ আছে। এটা এরকম হয় নাই যে মনে চাইছে বিয়ে করেছি, মনে চাইছে ছেড়ে দিয়েছি। দেখেন, এখন আমার দ্বিতীয় স্ত্রী যে চলে গেল, এটাকে আমি ছেড়েছি?’

মিসবাহ দাবি করেন, বিচ্ছেদের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরও তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে সংসারে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়ে একাধিক ব্যক্তির মধ্যস্থতায় বৈঠকও হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এত কিছুর পরও কিন্তু তাকে নিতে চেয়েছি। বৈঠকে সেখানে বড় বড় ব্যক্তিরা ছিলেন, সবাই অনুরোধ করেছেন— ‘এমন কিছুই হয় নাই, আপনার সাথে একটা ছেলে আছে, দেখেন সংসারটা ভাইঙ্গেন না। কিন্তু সে কোনোভাবেই থাকতে চায় না।’

দ্বিতীয় স্ত্রী সংসারে থাকতে না চাওয়ার পেছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও করেন এই বক্তা। তার ভাষ্য, ‘কি কারণে? কারণ উনি তো থাকবেন না দেখেই এত বড় ষড়যন্ত্র চক্রান্ত আমার পিছনে এতদিন ধরে করে আসছে। অতএব, এখানে এই বিষয়গুলো শুধুমাত্র আমাকে সম্মানহানি ও চরিত্রহরণের জন্যই আমার পারিবারিক বিষয়গুলো মানুষের মাঝে নিয়ে আসা হয়েছে আমাকে ছোট করবার জন্য, এর থেকে আর বেশি কিছু আমি মনে করিনি।’

দ্বিতীয় স্ত্রীকে দুই দফায় তালাক দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে মুফতি মিসবাহ বলেন, ‘নাইমা জান্নাতকে আমি দুইবারে দুইটা তালাক দিয়েছি। অনেক আগে একবার এক তালাক দিয়েছি রজি। এখন যেটা দেওয়া হয়েছে এটাও রেজি, মানে সে এখনো বৈধভাবে শরীয়াতসম্মত আমার স্ত্রী আছে। তাকে আরেক তালাক দেওয়ার আগে সে অন্য স্বামীর ঘরে যেতে পারবে না।’

এ সময় দ্বিতীয় স্ত্রীকে আগের স্বামীর সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজের ঘরে আনার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। মিসবাহর দাবি, এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ বা নথি নেই। তিনি বলেন, ‘আসলে আমি কারো ঘর থেকে নামিয়ে এরপর আমার ঘরে এনেছি, এমন কোনো প্রমাণ বা ডকুমেন্টস নাই।’

দ্বিতীয় স্ত্রী নিজেই আগের স্বামীকে তালাক দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার যেই স্ত্রী এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছে, যখন আমার ঘরে এসেছে তার আগেই তার নিজের আইডিতে লাইভ করা (ইউটিউবে সার্চ দিলেই পাওয়া যাবে) সে নিজেই বলেছে— আমি আসলে তাকে আনিনি, বরং সে নিজে কাবিনের বলে কোর্টের মাধ্যমে তার আগের স্বামীকে তালাক দিয়েছে।’

মিসবাহর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ওই নারীর পরিবারের সদস্যরা তার কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যান। তবে শুরুতে তিনি এতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘এরপরে তার নানা, মামা, খালু এরা মিলে আমার কাছে প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল— ‘যেহেতু যেকোনো কারণে আপনার সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে গেছে, এখন সে যাবে কোথায়? আপনি তাকে বিয়ে করুন।’

বিয়েতে রাজি হওয়ার পেছনে চাপ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তুলে এই ইসলামি বক্তা বলেন, ‘তাদের কথার পরেই যে বিয়ে করতে রাজি হয়েছি এমন না। তার অতীতের একটা চারিত্রিক ব্যাপার আছে, আমি সেটা সামনে আনতে চাইছিলাম না, সেটা জানার পরে আমি তাকে প্রত্যাখ্যান করি। তখন সে লাইভে ভিডিও কলে ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় গলা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করার ব্ল্যাকমেইল করে, যদি আমি বিয়ে না করি।’

তিনি আরও দাবি করেন, ওই নারীর সাবেক স্বামীর করা একটি মামলার বিষয়ও তখন সামনে আসে। এ প্রসঙ্গে মিসবাহ বলেন, ‘এই সবকিছু মিলিয়ে এবং তার এক্স-হাজবেন্ড তখন আমার নামে একটা মামলাও করেছিল। যদি আমি তাকে বিয়ে না করি, তাহলে সে তার এক্স-হাজবেন্ডের ঘরে আবার যাবে এবং গিয়ে মামলায় আমার বিপক্ষে সাক্ষী দিবে, তাতে আমার ক্যারিয়ার ধ্বংস হবে। এই ধরনের ব্ল্যাকমেইল করার পরে আমি আমার পারিবারিকভাবে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তারপর তাকে বিয়ে করি।’