পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক ব্যবহারের পর অসুস্থ হয়ে পড়া এক কৃষককে থানায় গিয়ে মামলা করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) পরামর্শে আইনের আশ্রয় নিতে গেলে তাকে ও তার স্ত্রীকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
ভুক্তভোগী কৃষক আশরাফ আলী উপজেলার বেতুয়ান গ্রামের বাসিন্দা। তার অভিযোগ, শরৎনগর বাজারের জাকারিয়া এন্টারপ্রাইজ থেকে কেনা কীটনাশক জমিতে প্রয়োগের পর তার হাতের আঙুলে তীব্র সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে তিনি ওই দোকানে গেলে দোকানমালিক আব্দুল জব্বারের সঙ্গে তার বাদানুবাদ হয়। এ সময় দোকানমালিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ দোকানটিতে জড়ো হন। এ সময় সেখানে আরও বেশ কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক পাওয়া যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। খবর পেয়ে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান। তবে তিনি পৌঁছানোর আগেই দোকানমালিক সেখান থেকে চলে যান।
পরে প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৃষককে থানায় নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেন এবং ওসিকে মামলা গ্রহণের নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে।
তবে আশরাফ আলী ও তার স্ত্রীর অভিযোগ, থানায় যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় বিএনপি নেতা দুলুসহ কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের শরৎনগর গরুর হাটের পাশে একটি কক্ষে আটকে রাখেন এবং ভয়ভীতি দেখান। ভাঙ্গুড়া থানার ডিএসবি সূত্রেও তাদের আটকে রেখে শালিশের চেষ্টা করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরে স্থানীয় সার ডিলার ও ঢাকাস্টীলের স্বত্বাধিকারী শামসুল আলম তাদের নিয়ে বসে বিষয়টি শালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে যাওয়া এক সাংবাদিককেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই সাংবাদিক কৃষকের মুঠোফোনে কল করলে বিএনপি নেতা দুলু ফোনটি ধরেন। কৃষকের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে কথা বলেন এবং যা বলার তাকেই বলতে বলেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই সাংবাদিক।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা শামসুল আলম বলেন, তাদের থানায় যেতে বাধা দেওয়া হয়নি। তারা দরিদ্র মানুষ, তাই তাদের যেন সঠিক চিকিৎসা হয়, সে জন্য কথা বলেছেন। চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকাও দেওয়া হয়েছে। তারা চাইলে অবশ্যই আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন।
ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আযম বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কীটনাশক ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা নিতে বলেছিলেন। তবে ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে আর থানায় আসেননি। তারপরও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত কীটনাশক ডিলারকে পাওয়া যায়নি। এ কারণে ভুক্তভোগীকে নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।