Image description

২০২৫ সালের জুলাইয়ে আত্মপ্রকাশ করা Dadi ART একটি ফেসবুকভিত্তিক আর্ট পেইজ। রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে স্টাইলাইজড ভেক্টর আর্ট, পোর্ট্রেট এবং পোস্টারধর্মী চিত্রকর্ম প্রকাশের মধ্য দিয়ে পেইজটি পরিচিতি পায়। উজ্জ্বল রং, জ্যামিতিক নকশা ও রেট্রো টাইপোগ্রাফির ব্যবহার ছিল এর শিল্পকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট পরিচিত মুখদের নিয়ে বিভিন্ন শিল্পকর্ম প্রকাশের মধ্য দিয়ে পেইজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে।

তবে শিল্পকর্মের নান্দনিকতা ছাপিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থাপন, ঐতিহাসিক ঘটনাবলির ব্যাখ্যা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

বিতর্কের সূচনা যেখান থেকে

পেইজটির কন্টেন্ট নিয়ে সর্বপ্রথম বিতর্কের সূচনা হয় প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হককে ফিচার করে বানানো একটি কন্টেন্টকে ঘিরে। গত ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলের লং মার্চের সমালোচনা করে আনিসুল হক এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন, “লং মার্চ গাড়িতে হয় না। হেঁটে করতে হয়। গাড়িতে গেলে হয় লংড্রাইভ।”

আনিসুল হকের এই মন্তব্যটিকে ফিচার করে ওইদিনই তার একটি পোর্ট্রেট পোস্ট করে পেইজটি। পোস্টের কন্টেন্টে লেখা ছিলো, “Anisul Hoque, a beloved contemporary literary figure celebrated for his poetry, fiction, satire, and sharp wit, has delivered a statement that sounds like and of the ongoing, “Long March in cars” of the NCP-Jamaat alliance.”

বাংলায়- “কবিতা, কথাসাহিত্য, ব্যঙ্গরচনা এবং তীক্ষ্ণ রসবোধের জন্য সমাদৃত জনপ্রিয় সমকালীন সাহিত্যিক আনিসুল হক এমন একটি বিবৃতি দিয়েছেন, যা এনসিপি-জামায়াত জোটের চলমান ‘গাড়িতে লংমার্চ’-এরই প্রতিধ্বনি বলে মনে হচ্ছে।”

আনিসুল হকের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিরোধী ভূমিকাকে সামনে এনে তাকে ফিচার করা নিয়ে পেইজটির বিরুদ্ধে সমালোচনা তৈরি হয়। পেইজটি পরিচালনার পেছনে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম রয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন কেউ কেউ। এর মধ্যে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাতও।

পরবর্তীতে গত ৩ অক্টোবর শেখ মুজিবুর রহমানকে ফিচার করে আরেকটি পোট্রেট পোস্ট করে পেইজটি। ওই পোট্রেটে লেখা ছিল, Burn his memoir

Smash his statues

Defame him online

You can’t destroy him

অর্থাৎ, “তার স্মৃতি পুড়িয়ে দিতে পারো, তার ভাস্কর্য ভেঙে ফেলতে পারো, অনলাইনে তাকে অপমান করতে পারো, তবে তোমরা তাকে ধ্বংস করতে পারবে না।”

এই আর্টওয়ার্কটি ছিল মূলত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে শেখ মুজিবুর রহমানের বই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রির ঘটনায় প্রকাশনী সংস্থা ইউপিএলের স্টল ভাঙচুর করার প্রতিক্রিয়ায়।

পেইজটি শেখ মুজিবুর রহমানকে ফিচার করায় মাহফুজ আলমকে জড়িয়ে আবারও অনলাইনে সমালোচনা শুরু হয়।

পরবর্তীতে সময়ে ‘July’s Shame’ নামে একটি সিরিজ প্রকাশের পর পেইজটির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে পেইজটি ‘July’s Shame’ সিরিজে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়। এর মাঝে ১ নাম্বারে আছেন এক্টিভিস্ট মোহাম্মদ ইশরাক, ২ নাম্বারে এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, ৩ নাম্বারে এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার, ৪ নাম্বারে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ময়মনসিংহ মহনগর শাখার সাবেক সদস্য সচিব নূর মোহাম্মদ আয়াস ও ৫ নাম্বারে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে দেখানো হয়। সিরিজটিতে কাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কোন বিবেচনায় তাঁদের ‘শেইম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে কী ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। একই সঙ্গে Dadi Art-এর সঙ্গে মাহফুজ আলমের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আবারও বিভিন্ন ব্যক্তি পোস্ট দেন।

‘July’s Shame’ তালিকা নিয়ে সমালোচনা

Dadi Art-এর ‘July’s Shame’ সিরিজকে ইঙ্গিত করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারোয়ার তুষার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “এক সময় তালিকাবাজি করত আওয়ামী অনলাইন বাহিনি সিপি গ্যাং। কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আর কে বিপক্ষে, কে ‘ব্রেইন’ আর কে ‘শেইম’ এসব তালিকাবাজির রাজনীতি হলো বাকশালী সিপি গ্যাং মার্কা রাজনীতি৷ গণঅভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্র-বিরোধী একদলীয় বাকশালকে যখন নিশানা করা দরকার ছিল, তখন ‘মি. ব্রেইন’ বিপ্লবীদের মুখে বিমূর্ত ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ’ মার্কা সেকেলে জাসদী স্লোগান তুলে দিসিল। বাংলাদেশের মানুষ শেখ মুজিবকে চেনে, ভালো-মন্দ মিলায়েই চেনে। কিন্তু ‘মুজিববাদ’ কী জিনিস? এটা খায় না মাথায় দেয়? কতিপয় বিদ্যে বোঝাই তাত্ত্বিক বাবু মশাই আর আইডিওলগদের বাইরে ‘মুজিববাদ’ সাধারণ মানুষের বিবেচনায় নাই। কিন্তু এ দেশের আপামর জনগণের সামষ্টিক স্মৃতিতে একদলীয় বাকশালের স্মৃতি টনটনে। তুমি কি বাকশালী নাকি গণতন্ত্রী— এটাই হওয়া দরকার ছিল মূল বাইফারকেশন। মি. ব্রেইন ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ’ স্লোগান তুলে প্রথমে বাকশালকে হাওয়া করছে। এখন আবার ‘মুজিবকে মোছা যাবে না’ কিসিমের কান্নাকাটি করে আওয়ামী নেক নজর পেতে চাচ্ছে। এ কারণেই তালিকাবাজি বাকশালী ভূত তার ও তার চ্যালাচামুণ্ডাদের মধ্যে পেয়ে বসেছে।”

শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে Dadi Art-এর তৈরি একটি ফটোকার্ডের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপিপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট আবদুল্লাহ হিল বাকি লিখেছেন,“একটা সময় নানান আলাপে আশেপাশের অনেক ছাত্র নেতাকে বলতে শুনতাম, রাজনীতি করতে হলে আলোচনায় থাকতে হবে। হোক সেটা পজিটিভ বা নেগেটিভ আলোচনা। সেই আলোচনায় থাকতে গিয়ে নানানজন নানাট ভাট বকতেও দ্বিধা করেন না। এই তরিকা ফলো করে অনেকেই নানান সময়ে ভাইরাল নেতা হয়ে গেছে। ইদানীং অনেককে দেখতেছি আলোচনায় থাকতে এই তরিকা ফলো করা শুরু করেছে। একবার মুজিববাদের কবর দেয়, আবার মুজিববাদের চরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। একবার জিন্নাহর '৪৭ ছাড়া ভিন্ন কোনো পথ দেখে না, আবার জিন্নাহকে ফেরাউন বানায়! আরো কতো কিযে দেখতে হবে এক জীবনে!”

Dadi Art-এর একটি শিল্পকর্মের সমালোচনা করে এনসিপিপন্থী আরেক অ্যাক্টিভিস্ট মেহেদি হাসান লেখেন, “মাস্টারমাইন্ড মাহফুয আলমের DADI Art থেকে পারসাকে নিয়ে এই ফটোকার্ডটা বানানো হয়েছে। পারসা নাকি রেবেল। কিসের রেবেল? ঘটনা দেখেন..... মাহফুয আলমের DADI Art থেকে বলা হচ্ছে, পারসা একটি মহাসত্য কথা বলেছেন। কি সত্য কথা? – "জুলাইয়ের নাম করে একাত্তরকে মুছে দিয়ে মূলত জুলাইকেই মুছে দেওয়া হয়েছে"। এটা নাকি মহাসত্য......! আর পারসার এই চটকদার মন্তব্যটাকেই প্রমোট করে একটা রেবেলিক ফটোকার্ড বানিয়ে বাজারে ছেড়েছে Alternatives এর মাহফুয আলম। কি আজব কারবার...?”

এছাড়া Dadi Art-এর শিল্পকর্ম ও রাজনৈতিক উপস্থাপন নিয়ে ‘Dadaism and the Dadagiri of Dadi Art’ শিরোনামে ডেইলি ওয়াদায় সমালোচনামূলক একটি নিবন্ধ লিখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সেলিম রেজা নিউটন।

প্রতিবেদনটিতে শেখ মুজিবুর রহমান ও আনিসুল হকের মতো বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে Dadi Art যেভাবে উপস্থাপন করেছে, তা তাঁদের রাজনৈতিক ভূমিকা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে স্বাভাবিক করে দেখানোর প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না, সেই প্রশ্ন সামনে আনা হয়। অন্যদিকে, ‘July’s Shame’ সিরিজে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিচিত ব্যক্তিদের ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে তাঁদের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির প্রবণতা রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

মূলত রাজনৈতিক শিল্পের আড়ালে ব্যক্তিদের মূল্যায়ন, জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক বয়ান নির্মাণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক চরিত্রকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে Dadi Art-এর অবস্থানই ছিল সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

Dadi Art-এর সঙ্গে মাহফুজ আলমের সংযোগের প্রশ্ন

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের সঙ্গে Dadi Art-এর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। মাহফুজ আলম বর্তমানে Alternatives নামে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোক্তা ও সংগঠক। ২০২৬ সালের ৭ মার্চ প্ল্যাটফর্মটি ১৭ সদস্যের জাতীয় সংগঠক কমিটি ঘোষণা করে। বেঙ্গল লেন্সের পর্যালোচনায় Alternatives ও Dadi Art-এর প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টের বিষয়বস্তু, প্রকাশের সময় এবং শিল্পকর্মের উপস্থাপনায় একাধিক মিল পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি বা বিষয় নিয়ে একই দিনে, আবার কিছু ক্ষেত্রে এক দিন বা কয়েক দিন ব্যবধানে দুই পেইজ থেকে পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এসব মিল পেইজ দুটির মধ্যে সম্ভাব্য যোগাযোগ বা সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ তৈরি করে।

২০২৬ সালের ২৯ জুন শিল্পী মুস্তফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দুই পেইজ থেকে শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়। পোস্ট দুটির ক্যাপশনেও মিল দেখা যায়। Alternatives-এর ক্যাপশন ছিল 'পাপেটগুলো কাঁদছে সমস্ত শৈশব নিয়ে' এবং Dadi Art-এর ক্যাপশন ছিল 'puppetry has lost its master and we have lost a piece of our childhood'।

R (25)

 

এর আগে ১১ জুলাই কবি আল মাহমুদের জন্মদিন উপলক্ষে উভয় পেইজ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট প্রকাশ করা হয়।

R (26)

 

১৮ জুলাই বাংলাদেশের বর্ষাকালের সাংস্কৃতিক তাৎপর্য পুনরুদ্ধার নিয়ে Alternatives-এ চারুকলায় নাচের অনুষ্ঠানকে স্বাগত জানিয়ে শিল্পকর্ম প্রকাশ করা হয়। পরদিন ১৯ জুলাই একই বিষয়ে Dadi Art থেকেও শিল্পকর্ম প্রকাশিত হয়।

R (27)

 

২৭ জুলাই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কর্মী কল্পনা দত্তের জন্মদিন উপলক্ষে উভয় পেইজ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

R (28)

 

২৮ জুলাই শিক্ষাবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জাহানারা ইমামকে স্মরণ করে উভয় পেইজ থেকে পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানেও ডিজিটাল পোর্ট্রেটের উপস্থাপনায় সাদৃশ্য ছিল বলে পর্যালোচনায় দেখা যায়।

R (33)

 

২৯ জুলাই দুই পেইজ থেকেই আহমদ ছফাকে স্মরণ করে পোস্ট দেওয়া হয়।

R (34)

 

২ আগস্ট জুলাইয়ে শিল্পীদের সংহতিসংশ্লিষ্ট পোস্টও প্রকাশিত হয় দুই পেইজ থেকে। একই দিন (২ আগস্ট) Dadi Art থেকে মাহফুজ আলমের প্রশংসাসূচক একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। পরদিন, ৩ আগস্ট, একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিল্পরীতিতে Alternatives থেকেও পোস্ট দেওয়া হয়।

R (35)

 

১৫ আগস্ট উভয় পেজ থেকেই বেগম খালেদা জিয়াকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হয়।

R (36)

 

১৭ আগস্ট কবি শামসুর রাহমানকে স্মরণ করে উভয় পেইজে পোস্ট দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ডিজিটাল পোর্ট্রেটের মধ্যেও দৃশ্যমান সাদৃশ্য ছিল বলে বেঙ্গল লেন্সের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে।

R (37)

 

১৮ আগস্ট লেখক ও চিন্তাবিদ সলিমুল্লাহ খানের জন্মদিনে প্রশংসাসূচক বক্তব্যসহ শুভেচ্ছা জানানো হয় উভয় পেইজ থেকে।

R (39)

 

২০ আগস্ট বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে নিয়েও দুই পেইজ থেকে পোস্ট প্রকাশ করা হয়।

R (38)

 

চা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী গীতা রাণী কানুর মুক্তির দাবিতে ৩ সেপ্টেম্বর Alternatives-এর পক্ষ থেকে পোস্ট দেওয়া হয়। তিন দিন পর, ৬ সেপ্টেম্বর একই বিষয়ে Dadi Art থেকেও পোস্ট প্রকাশিত হয়।

R (40)

 

ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে আওয়ামী লীগের হেনস্তার প্রতিবাদে ৮ সেপ্টেম্বর উভয় পেইজ থেকে বাধঁনের ছবি দিয়ে কন্টেন্ট প্রকাশ করা হয়।

R (41)

 

সর্বশেষ গত ১৪ অক্টোবর সাতক্ষিরায় ধর্মাবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামিমকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে শামিমের একটি পোট্রেট প্রকাশ করে দাদি আর্ট। ১৬ অক্টোবর অল্টারনেটিভসের পেইজ থেকেও শামিমের পোট্রেট পোস্ট করা হয়। উভয় নিহত শামিমের একই ছবি থেকে পোট্রেট তৈরি করেছে।

R (42)

 

শৈল্পিক মিল

পেইজ দু‘টির কন্টেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উভয় পেইজই ছবি আঁকার ক্ষেত্রে মিড-সেঞ্চুরি পোস্টার ধাঁচে ফ্ল্যাট পোস্টার-ইলাস্ট্রেশন, সীমিত ও মাটিঘেঁষা রঙ, পুরোনো ছাপার আবহ তথা দানাদার টেক্সচার, ছোপ ছোপ দাগ, হাফটোন বিন্দু, ঘিয়ে বা কুঁচকানো কাগজের পটভূমি আর ঘষা-খাওয়া ফ্রেম-রেখা, বিপ্লবী পোস্টারের বিন্যাস, প্রতিকৃতি আর উদ্ধৃতির জুটি তথা বড় করে কাটা মুখ, তার পাশে বা ওপরে উদ্ধৃতি এবং নিচে নাম- এমন ছক, বাংলার লোকজ নকশা যেমন কাপড়ে নকশিকাঁথা, জামদানি বা গামছার মতো নকশা, ফুল, পাতা, গাছ, পাখির সরলীকৃত মোটিফ ব্যবহার করে।

এছাড়া দুই পেইজই আন্দোলন ও মানুষের আসল ফটোগ্রাফকে ভিত্তি করে কাজ করে, কখনো একই ছবি থেকেও। সেই ছবিকে রঙের আস্তরণ, ডুয়োটোন বা পুরোপুরি নতুন করে আঁকা ইলাস্ট্রেশনে বদলে নেওয়া হয়।

দুই পেইজের ছবিতেই শিরোনামে মোটা ও জ্যামিতিক তথা ভারী, বড় হাতের, পোস্টারধর্মী অক্ষর ব্যবহার করা হয়, অনেক সময় সেটা ঘষা বা ভাঙা ভাব দিয়ে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের হোয়াটসঅ্যাপে ও ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি এবং কয়েকবার কল কেটে দেন। পরবর্তীতে তাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।