Image description

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে নিখোঁজ শিক্ষিকা নাসরিন জাহান মুক্তার (২৯) মরদেহ শনাক্ত করতে পারেনি তার পরিবার। এতে মুক্তা জীবিত আছেন, নাকি অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তার স্বজনেরা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুক্তার নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। তিনি ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি।

জানা গেছে, নিখোঁজ নাসরিন জাহান মুক্তা মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের খানবাড়ির বাসিন্দা মোস্তফা কামালের মেয়ে। তিনি ঢাকার সাভারে ‘স্বপ্ন বিলাস স্কুল’ নামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন।

মুক্তার সঙ্গে থাকা বান্ধবীরা জানান, দুদিন আগে ছুটির ফাঁকে দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে যান মুক্তা। তারা পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। শনিবার সকালে তার দুই বান্ধবী সৈকতে হাঁটতে যাওয়ার সময় মুক্তাকেও সঙ্গে যেতে বলেন। তবে তিনি ঘুমাবেন বলে রিসোর্টেই থেকে যান।

বান্ধবীরা রিসোর্ট থেকে বের হওয়ার প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যেই সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুন লাগার পর রিসোর্টের ভেতরে থাকা মুক্তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় প্রশাসন। সকাল সোয়া ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে বেলা ১১টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।

মুক্তার ফুফাতো ভাই ইমরান হাজী বলেন, উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের মধ্যে আমার বোনকে এখনো শনাক্ত করতে পারিনি। বোনজামাই বর্তমানে কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। পরিবারের সবাই চরম উদ্বিগ্ন। আমাদের এই শোক ও অনিশ্চয়তা সইবার মতো কোনো শক্তি আর অবশিষ্ট নেই।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, তারা ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবেন।