Image description

সংসারের নিয়মিত খরচ আর বকেয়া বিল মেটাতে এখন আগের চেয়ে বেশি ঋণ নিচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বারবার অধরাই থেকে যাচ্ছে। অন্যদিকে, পুরনো ঋণের কিস্তি মেটাতেই চলে যাচ্ছে সরকারের একটা বড় অঙ্কের টাকা। এতে দেখা দিয়েছে নতুন আশঙ্কা: এভাবে ঋণের বোঝা বাড়তে থাকলে শিক্ষা বা স্বাস্থ্যের মতো জরুরি জনসেবামূলক খাতে সরকারের খরচ কমে যাবে, আর দেশ ধীরে ধীরে আটকা পড়বে ‘ঋণফাঁদে’।

গত চার দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকার তার দৈনন্দিন প্রশাসনিক খরচ মেটাতেও ঋণ নিতে বাধ্য হয়। পরের বছর এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। আগে যেখানে উন্নয়নকাজের জন্য ঋণ নেওয়া হতো, এখন তা চলে যাচ্ছে প্রতিদিনের চাল-ডালের মতো সাধারণ খরচে।

বিদেশি ঋণের কিস্তি শোধের চাপ দিন দিন বাড়ছে। নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিও আগের চেয়ে কমে গেছে। ফলে সরকার ঋণের জন্য দেশের ব্যাংকগুলোর ওপর বেশি নির্ভর হয়ে পড়ছে। অথচ একই সময়ে বেসরকারি ব্যবসায়ীদের ঋণ পাওয়ার প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নেমে থমকে আছে।

বাংলাদেশ কি সত্যিই ঋণফাঁদের দিকে যাচ্ছে? তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মতভেদ আছে। তবে রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থতা, সুদের ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের টানাটানির বাজেট নিয়ে তারা সবাই সমান উদ্বিগ্ন।

সহজ ভাষায় ‘ঋণফাঁদ’ হলো এমন এক অবস্থা, যখন পুরনো ঋণের কিস্তি শোধ করতে গিয়ে দেশকে বারবার নতুন করে ঋণ নিতে হয়। এতে দেশের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা নষ্ট হয়ে যায়।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, বাংলাদেশ এখন সেই বিপজ্জনক পথেই হাঁটছে।

অবশ্য গবেষণা সংস্থা সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো ফাহমিদা খাতুন এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মসরুর রিয়াজ কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করেন। তারা ঝুঁকির বিষয়টি স্বীকার করলেও বাংলাদেশ এখনই ঋণফাঁদে আটকে পড়ছে বলে মনে করেন না।

তবে বাজেটের হিসাবের দিকে তাকালেই বিপদ স্পষ্ট বোঝা যায়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার খরচের বাজেট করেছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অথচ আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি থাকছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এই ঘাটতি আগের বছরের সংশোধিত ঘাটতির চেয়ে ২১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নিয়েছিল। কিন্তু তারা সংগ্রহ করতে পেরেছে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা কম সংগ্রহ হয়েছে।

যদিও আগের বছরের চেয়ে আদায় ১২ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ বেড়েছে, তবুও নতুন বাজেটের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে এনবিআরকে এ বছর আগের বছরের প্রকৃত আদায়ের তুলনায় ৪৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি পেতে হবে।

রাজস্ব আদায়ের এই ঘাটতি সরকারের ঋণের চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। শুধু ঋণের সুদ মেটাতেই বাজেটে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আলাদা করে রাখতে হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় ঋণের সুদ ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদ ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট ও উৎপাদনশীল খাতের জন্য সরকারের হাতে স্বাভাবিকভাবেই টাকা কমে যাচ্ছে।

জাহিদ হোসেন সতর্ক করে বলেন, সরকারের কাজের পরিধি যেভাবে বাড়ছে, বর্তমান আয় দিয়ে তা চালানো অসম্ভব। বিশেষ করে যদি নতুন কোনো খরচের দায় তৈরি হয়।

চলতি বছর আংশিক চালু হওয়া নতুন সরকারি পে-স্কেল আগামী বছরগুলোতে পুরো চালু হলে বছরে অন্তত আরও ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা বাড়তি লাগবে। এর সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের যোগ করা হলে খরচ আরও অনেক বাড়বে।

জাহিদ হোসেন টাইমসকে বলেন, ‘যদি ঋণের সুদের হার অর্থনীতির বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হয় এবং বড় রাজস্ব ঘাটতি থেকে যায়, তবে ঋণের বোঝা অর্থনীতির চেয়েও দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকবে।’

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বাংলাদেশের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল জিডিপির ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ। আর ২০৩১ সালের মধ্যে এই হার ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে।

বাংলাদেশের এই ঋণের অনুপাত পাকিস্তান (প্রায় ৭০ শতাংশ), ভারত (৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ) কিংবা আমেরিকা ও চীনের (১০০ শতাংশের বেশি) চেয়ে কম। তবে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের (২৭ থেকে ৩০ শতাংশ) চেয়ে বেশি।

তবে আরও ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকা মানেই তা ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা থাকা নয়। এটি নির্ভর করে সরকার কত টাকা কর আদায় করতে পারছে, সুদের হার কত, কখন টাকা ফেরত দিতে হবে এবং ব্যাংকে ডলার আছে কি না।

মসরুর রিয়াজের মতে, মূল সমস্যা ঋণের অঙ্কে নয়, সমস্যা হলো ঋণ শোধের সীমিত ক্ষমতায়। কারণ, জ্বালানি, কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য যে ডলার দরকার, তা এখন বিদেশি ঋণের কিস্তি মেটাতে চলে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালের জুন শেষে সরকারের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে, যা এক বছর আগে ছিল ৯৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের মূল ও সুদ মেটাতে খরচ প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছর এই খরচ ছিল ৪ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলার।

অথচ একই সময়ে বিদেশ থেকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি ৩৭ শতাংশ কমে ৫ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে গেছে, যা গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। টাকা ছাড়ের পরিমাণও ৮ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন থেকে কমে ৮ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।

ফলে কিস্তি শোধের পর দেশের হাতে থাকা নিট বা প্রকৃত বিদেশি সহায়তার পরিমাণ ২০ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

মসরুর রিয়াজ জানান, বছরে এখন শুধু বিদেশি ঋণের কিস্তি দিতেই লাগছে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার। আর সরকারের মোট সুদ ব্যয় পৌঁছেছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারে।

পরিস্থিতির এই অবনতির জন্য তিনি গত দুই দশকের অসমাপ্ত কর সংস্কার, বাজে খরচ, দুর্নীতি ও অপচয়কে দায়ী করেন।

টাইমসকে তিনি বলেন, ‘২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মধ্যে সরকার অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়। এর মধ্যে কিছু দরকারি হলেও, অনেকগুলো ছিল অসময়ের, অপ্রয়োজনীয় কিংবা অহেতুক বেশি খরচের প্রকল্প।’

কোনো রিটার্ন বা বাড়তি আয় না আসলেও বিপুল ঋণ নিয়ে এসব প্রকল্প করা হয়েছে, যা আয় না বাড়িয়ে কেবল দেনার পাহাড় বাড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘অবকাঠামোর জন্য ঋণ নেওয়া ভালো, যদি প্রকল্পগুলো থেকে নিজস্ব খরচ তোলার মতো আয় আসে।’

এই বিষয়টি এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বাংলাদেশ এখন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেন করা, মেট্রোরেল লাইন-২ এবং ৩০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনাসহ ১৩টি নতুন প্রকল্পের জন্য আরও ৬ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ খুঁজছে।

এসব প্রকল্পের মোট আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রস্তাবিত বিদেশি অর্থায়ন ৭৯ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। এসব প্রকল্প অর্থনীতির জন্য লাভজনক হবে নাকি বোঝা হবে, তা নির্ভর করবে ঋণের শর্ত ও বাস্তবায়নের দক্ষতার ওপর।

এদিকে, সরকার দেশের অভ্যন্তরে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকেও প্রচুর ঋণ নিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে সরকার নিট ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। এটি সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকার চেয়ে ৪৭ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা বেশি।

উক্ত বছরে সরকারের ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ শতাংশ। অথচ বেসরকারী খাতের ব্যবসায়ীদের ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার ব্যাংক থেকে নিট ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে কর আদায়ের পরিস্থিতি এবং বাইরের অর্থায়নের ওপরই নির্ভর করবে সরকার এই সীমার মধ্যে থাকতে পারবে কি না।

এর মধ্যে বিদেশি ঋণও এখন আরও চড়া ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি সরকার ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক বা শর্তযুক্ত ঋণ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেল ও এলএনজি কিনতে ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার এবং বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে ২০০ মিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের মাধ্যমে নেওয়া জ্বালানি ঋণের মেয়াদ মাত্র ছয় মাস। এর সুদের হার ছয় মাসের ‘এসওএফআর’ হারের সঙ্গে অতিরিক্ত ১ দশমিক ৭০ শতাংশ যোগ করে ধরা হয়েছে।

এ ধরনের ঋণ জরুরি জ্বালানি পাওয়ার পথ তৈরি করলেও, মাত্র ছয় মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার শর্ত অর্থনীতিতে তীব্র চাপ সৃষ্টি করে।

মসরুর রিয়াজ মনে করেন, বাংলাদেশ হুট করে ঋণ নেওয়া বন্ধ করতে পারে না। তিনি পরামর্শ দেন, আগামী দুই থেকে তিন বছর কেবল সেসব প্রকল্পেই বিদেশি ঋণ নেওয়া উচিত, যেগুলো সরাসরি দেশের আয় বা কর্মসংস্থান বাড়াবে, ক্ষমতা বাড়াবে। তা না করলে বড় ক্ষতি হবে।

কম সুদের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি পুরো সরকারি বাজেটের সার্বিক পর্যালোচনা এবং ৩ থেকে ৫ বছর মেয়াদি ঋণ-ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার কথা বলেন। সেখানে কর আদায় বাড়ানো, দক্ষ খরচ ও কড়া প্রকল্প বাছাইকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, বাংলাদেশ এখনো সরাসরি ঋণফাঁদে পড়েনি। তবে সুদের চাপ যেভাবে দরকারী খাতগুলোকে থমকে দিচ্ছে—তা চিন্তার বিষয়।

তিনি করদাতার সংখ্যা বাড়ানো, কর ফাঁকি বন্ধ করা, কম প্রয়োজনীয় খরচ ছাঁটাই করা এবং সঠিক জায়গায় ভর্তুকি দেওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘দরকারি অর্থনৈতিক সংস্কারগুলো ঝুলিয়ে রাখলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাবে এবং নতুন ঋণ পাওয়া আরও কঠিন হবে।’

অর্থনীতিবিদদের শেষ কথা খুব পরিষ্কার: সুদের পেছনে অতিরিক্ত ব্যয় করা প্রতিটি টাকা শিক্ষা, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ কিংবা নতুন ব্যবসার উন্নতি থেকে কেটে নেওয়া হচ্ছে। আর প্রবৃদ্ধি ধীরগতির হয়ে পড়লে এই দেনা শোধ করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশের মূল চ্যালেঞ্জ কেবল এটি নয় যে ‘দেশের কত দেনা আছে’। মূল চ্যালেঞ্জ হলো দেশের অর্থনীতি ও কর ব্যবস্থা সেই দেনা সহ্য করার মতো শক্ত কি না।

বাংলাদেশের হয়তো এখনো নতুন ঋণ নেওয়ার কিছুটা সুযোগ আছে। কিন্তু কিস্তির চাপ বৃদ্ধি, কর আদায়ের ব্যর্থতা এবং উন্নয়নমূলক কাজের বদলে পুরনো দেনা শোধে ঋণের ব্যবহারে সেই সুযোগ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে।

ঋণফাঁদ এড়াতে হলে কর আদায় বাড়াতে হবে, খরচে কড়াকড়ি আনতে হবে এবং কেবল সুনির্দিষ্ট লাভজনক প্রকল্পেই হিসাব করে ঋণ নিতে হবে। এই সংস্কারগুলো করতে না পারলে, ভবিষ্যতে উন্নয়নের পেছনে খরচ করার বদলে অতীত থেকে জমে থাকা ঋণের পাহাড় সামলাতেই সরকারের সব অর্থ শেষ হয়ে যাবে।