প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির রক্তপ্রবাহ হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে সৌদি থেকেই আসে রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ।
সেখানে কাজ করেন প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী। তাঁদের শ্রম-ঘামের পাঠানো টাকায় চলে পরিবার, আর সমৃদ্ধ হয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। কিন্ত সাম্প্রতিক হুতিদের একের পর এক হামলায় সৌদি এখন রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্র। অচল হয়ে পড়ছে স্বাভাবিক কাজকর্ম।
বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা। সব ধরনের কাজকর্মও বন্ধের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। জ্বালানি তেলের বড় উৎস দেশ সৌদির এই অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে তেলের দামেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে আক্রমণের মাত্রা বাড়ায় দেশটির অনেক বিমানবন্দরের সঙ্গে বিমান চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ থেকেই একের পর এক বিমানযাত্রা স্থগিত করা হচ্ছে। সংঘাতের ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার যাত্রীর সৌদিযাত্রা অনিশ্চিত হয়েছে।
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন এস এম নাজমুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে আরো বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সৌদি আরবে বিশ্বকাপ আয়োজনসহ বিভিন্ন মেগাপ্রকল্প এবং ‘ভিশন ২০৩০’ ঘিরে ব্যাপক নির্মাণকাজ চলছে।
এসব প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। সংঘাতে এসব প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও কমে যেতে পারে।
সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এস এম নাজমুল হাসান বলেন, বিমানবন্দরে পর পর হামলার ঘটনায় প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ভ্রমণ, হোটেল, পরিবহন ও বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এসব খাতের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। রিয়াদ ও জেদ্দার বিমানবন্দরে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এবং দাম্মামে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চলায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলো বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রভাব দৃশ্যমান হয়নি বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, নির্মাণ ও হোটেল খাতসহ বিভিন্ন ব্যবসায় এরই মধ্যে কিছুটা ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। সংঘাত কত দিন স্থায়ী হয়, তার ওপর বাংলাদেশি কর্মীদের আয় ও কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাবের মাত্রা নির্ভর করবে।
গতকাল সৌদি যেতে না পারা প্রবাসী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। ছুটি কাটিয়ে গতকাল দুপুরে তাঁর রিয়াদে ফেরার কথা ছিল। আগেই টিকিট কেটে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। পরবর্তী ফ্লাইট কখন ছাড়বে, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাচ্ছিলেন না। বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে দাঁড়িয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রফিকুল বলেন, ‘হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। আমাকে যেকোনো মূল্যে সৌদি আরব যেতে হবে। সময়মতো যেতে না পারলে চাকরি বাঁচানো যাবে না। সবকিছু অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে। পরবর্তী ফ্লাইটের সিদ্ধান্ত জানানো হলে ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমত।’
রফিকুলের মতো হাজারো যাত্রী এখন অনিশ্চয়তায়। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চলাচলকারী সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইটের যাত্রাসূচিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ৫১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে পাঁচ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ১২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৩৯টি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের তিনটি ফ্লাইট রয়েছে। ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের পাঁচটি, ফ্লাইদুবাইয়ের পাঁচটি, সালামএয়ারের তিনটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইটের যাত্রাসূচিতে প্রভাব পড়েছে।
রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। অন্যদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সৌদিয়া এয়ারলাইনস মঙ্গলবার থেকে ঢাকা-দাম্মাম রুটে যাত্রী পরিবহনের পরিকল্পনা নিয়েছে। দাম্মাম বিমানবন্দরে পৌঁছে যাত্রীরা সড়কপথে নিজ নিজ কর্মস্থলে যেতে পারবেন।
গতকাল সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, সৌদি আরবের যেসব বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব, সেগুলো ব্যবহার করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষের পথে এবং যাঁরা কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না, তাঁদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিলের এই পরিস্থিতি সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য শুধু যাতায়াতের ভোগান্তি নয়, কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখারও উদ্বেগ তৈরি করেছে। আটকে যাওয়া বাংলাদেশিরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দিতে না পারলে চাকরি হারানো, ভিসার মেয়াদ সংক্রান্ত জটিলতা এবং নিয়োগকর্তার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৪ জনের বেশি বাংলাদেশি, যাঁদের কয়েকজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। সৌদি আরবে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস ও কাজ করেন। এ ছাড়া প্রতিবছর গড়ে পাঁচ বিলিয়নের বেশি রেমিট্যান্স আসে। ফলে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিমান চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন বাংলাদেশের শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স, জ্বালানি আমদানি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
হামলায় আহতদের চিকিৎসাসেবা চলছে জানিয়ে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন এস এম নাজমুল হাসান আরো বলেন, ‘হামলায় আহত ২৪ জন বাংলাদেশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুপুর (গতকাল) পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একজনের জ্ঞান ফেরেনি। এ ছাড়া তিন-চারজনের অবস্থা কিছুটা উদ্বেগজনক। আহতদের মধ্যে ছয়-সাতজনকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ঘটনার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।’
সৌদি আরবের রিয়াদে কাজ করেন বাপ্পি নামের এক তরুণ। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রিয়াদে বোমা হামলার পর সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এখানকার প্রশাসনও অনেক কড়া হয়েছে। স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। তবে এখানে দোকানপাট, মার্কেট খোলা আছে। অনেক কাজে সমস্যা হচ্ছে। তবে এখানে যারা কাজ করে, তাদের বড় সমস্যা হচ্ছে না। তবে সবাই আতঙ্কিত।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি আরবে ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজ করেন। ফলে যুদ্ধের কারণে সাময়িকভাবে প্রভাব পড়বেই। চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং নতুন শ্রমবাজার খোঁজার বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার নতুন শ্রমবাজার খোঁজা এবং দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
শ্রমবাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০ লাখ কর্মী বিদেশে যান। তাঁদের বড় অংশের গন্তব্য সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। যুদ্ধের কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কর্মীদের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির কারণে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার কর্মীর সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে শুধু নতুন কর্মীদের বিদেশযাত্রা পিছিয়ে যাচ্ছে না, ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে চাওয়া কর্মীরাও সমস্যায় পড়ছেন। নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দিতে না পারলে চাকরি, ভিসার মেয়াদ এবং নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। যাঁদের ভিসা হয়েছে কিন্তু যাত্রা আটকে গেছে, তাঁদের জন্যও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
সৌদি আরবে বড় আকারের নির্মাণকাজ, পর্যটন ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি কর্মীর চাহিদা রয়েছে। ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে সৌদি আরবে বিভিন্ন খাতে আরো বড় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিনিয়োগ, পর্যটন ও উন্নয়ন প্রকল্পের গতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি কর্মীদের সম্ভাব্য চাকরির সুযোগেও।
রেমিট্যান্সে বাড়তে পারে চাপ
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছে ৫৮৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে মোট ১৬৩ কোটি ডলার। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৫৮ কোটি, আগস্টে ৫৫ কোটি এবং সেপ্টেম্বরে ৫০ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। তিন মাসে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের পরিমাণ কমেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সংঘাতের কারণে কর্মীরা চাকরি হারালে, কর্মঘণ্টা কমে গেলে কিংবা নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়লে রেমিট্যান্সে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরবের মতো বড় শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান সংকুচিত হলে তার প্রভাব দেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী পরিবারের আয়ে পড়বে।
জ্বালানি ব্যয় বাড়ার শঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি আমদানি ব্যয়ের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। দেশে জ্বালানি সরবরাহ ও আমদানি ব্যয় নিয়ে আগে থেকেই চাপ রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন, শিল্প-কারখানা ও কৃষি উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে।
প্রবাসীদের নিরাপত্তায় আগাম প্রস্তুতির তাগিদ
অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর মনে করেন, সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলায় বাংলাদেশিদের প্রাণহানি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে আগাম প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। তাঁর মতে, কোনো হামলা বা দুর্ঘটনার পর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নেওয়ার পাশাপাশি আগেই ঝুঁকি নিরূপণ, প্রবাসীদের সতর্ক করা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
আসিফ মুনীর আরো বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিয়মিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির তথ্য সংগ্রহ করা উচিত। কোন এলাকায় ঝুঁকি বাড়ছে, কোথায় বাংলাদেশি কর্মীদের অবস্থান বেশি এবং তাঁদের কর্মস্থল ও আবাসন কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তা চিহ্নিত করে নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে। এসব তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আদান-প্রদানের পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও সমন্বয় করা প্রয়োজন।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিকল্প নেই
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য তাৎক্ষণিক মানবিক সংকটের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করছে। আহতদের চিকিৎসা, নিহতদের মরদেহ দেশে আনা, প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আটকে পড়া কর্মীদের সহায়তা এখন সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার। পাশাপাশি সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স ও জ্বালানি আমদানিতে সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবেলায় মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
এদিকে গতকাল রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের দেওয়া ‘অতি জরুরি’ বিজ্ঞপ্তিতে ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল স্থান’ এড়িয়ে চলার জন্য প্রবাসীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতিসংক্রান্ত ছবি, ভিডিও ও স্পর্শকাতর তথ্য মুঠোফোনে সংরক্ষণ, আদান-প্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। দূতাবাস জানিয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড সৌদি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সৌদি কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনাও যথাযথভাবে অনুসরণ ও প্রতিপালন করতে হবে।
জরুরি প্রয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দূতাবাসের বিভিন্ন হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। শ্রমসংক্রান্ত বিষয়ে টোল ফ্রি নম্বর ৮০০১০০০১২৫ এবং পাসপোর্টসংক্রান্ত বিষয়ে ৮০০১০০০১২৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। ডিপ্লোমেটিক উইং সংক্রান্ত প্রয়োজনে ৮০০১০০০১২৪ নম্বরে যোগাযোগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মৃত্যুসংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে +৯৬৬৫৭০২১২১৮০ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।