সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত কুমিল্লার দাউদ উল ইসলাম (২৭) দেশটির রাজধানী রিয়াদের ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন।
তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর এলাকার মাওলানা মহিব উল্লাহর ছেলে এবং একই হামলায় নিহত নাসরুল্লাহর আপন চাচাতো ভাই।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে একজন দাউদ উল ইসলাম।
আজ সোমবার রাতে আহত দাউদ উল ইসলামের ভাতিজা মো. জুনায়েদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
দাউদ উল ইসলামের পরিবার জানায়, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে তিনি বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যান। সেখানকার রাজধানী রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টার ট্রানজিট শেষে মক্কার উদ্দেশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। এ সময় হঠাৎ ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বিমানবন্দরটিতে। এতে ১২ জন নিহত এবং ৩০০'র অধিক আহত হন। নিহতদের মধ্যে ২ জন এবং আহতদের মধ্যে ২৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
হামলায় আহত দাউদ উল ইসলাম রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ওমরাহ পালন করতে যাওয়া
নিহত নাসরুল্লাহর আপন চাচাতো ভাই। তারা এ দুই জনসহ ৪৫ জন একটি ওমরাহ কাফেলার সদস্য ছিলেন।
গত রমজানের ঈদের পরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী মন্নারা গ্রামে বিয়ে করেছিলেন দাউদ উল ইসলাম । ৬ ভাইবোনের মধ্যে দাউদ সবার ছোট।
দাউদের ভাতিজা জুনায়েদ সাংবাদিকদের আরো বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত হওয়ার পর আমার কাকাকে রিয়াদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি কপালে ও পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তার পায়ে অপারেশন হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার নিহত ও আহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি। নিহত নাসরুল্লার মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দেওয়া হবে।