সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দিয়ে শিল্পকলার দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়াও অন্য দুই ব্যক্তিকে হঠাৎ করে যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এ ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের সাম্প্রতিক কয়েকটি গ্রেফতারের ঘটনা বিশ্লেষণ করে আড়ালে কোনো পক্ষ কলকাঠি নাড়ছে কি না, সেদিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সোমবার নিজের ফেসবুক দেওয়া স্ট্যাটাসে এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ফারুকী লিখেছেন, ‘আমাদেরকে আজাইরা আলাপে ব্যস্ত রাইখা আড়ালের কেউ কোন কলকাঠি নাড়ার কাজে ব্যস্ত এসব দিকে একটু চোখ টোখ রাইখেন।’
তিনি বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তাসহ সীমান্তে এবং দেশের ভিতরে বেশ কয়েকটা গ্রেফতারের ঘটনা বিশ্লেষণ করলে অনেক কিছুই অনুমান করতে পারবেন। এই রকম অবস্থায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে দিয়া কে বা কারা এই অদরকারি কাজটা করাইছে সেটা খুঁজে দেখেন। রবীন্দ্রনাথকে বাংলাদেশে সরকারিভাবেই সেলিব্রেট করা হয়। ওটা কেউ আটকাইতে গেছে বইলা আমরা শুনি নাই।
কিন্তু এই শিল্পকলার দেয়ালের ক্ষেত্রে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দিয়া রবীন্দ্রনাথ ছাড়াও বাকী দুইজনকে হঠাৎ করে যে ঢোকানো হইলো সেটাতো আমাদের এখানে রেগুলার বা সাধারণ ঘটনা না। মানে এই অ-সাধারন ঘটনাটা কার মাথা থেকে আসছে এটা খোঁজ নিলেই বুঝবেন তাদের ধান্দাটা কী? কে কাকে দিয়া এই অপ্রয়োজনীয় এবং অ-সাধারণ কাজটা করাইলো সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি আশা করি এই বিষয়ে খোঁজ খবর নিবে।
আর ওই দিকে যারা ছবিতে কালি দেয়ার মতো ফালতু বিপ্লবে ব্যস্ত তাদের কথা আর কিইবা বলবো!
যাই হোক, যেটা বলতে চাইছি সেটা হলো সময় আসছে সরকারের সংস্থাগুলির বোঝার যে কে কোথায় কোন চাল চালতেছে। এগুলার মূল উদ্দেশ্য ফোকাস অন্য দিকে নেয়া এবং আমাদেরকে অন্য আলাপে ব্যস্ত রাখা।
আমাদের এখন প্রসঙ্গ একটাই- বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পুনর্গঠন! রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক- সবভাবে। এবং আলাপের প্রসঙ্গ একটাই কী কী ভাবে ফ্যাসিবাদি শক্তি আমাদের এই ক্ষেত্রগুলিকে ধ্বংস করছে এবং কীভাবে সেখান থেকে বের হয়ে আসা যায়।’
এর আগে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন লেখক, কবি ও চিত্রকর ব্রাত্য রাইসু। ১০ গুণী ব্যক্তির মধ্যে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, ঔপন্যাসিক ও ছোট গল্পকার হাসান আজিজুল হকের ছবি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন । সেই সঙ্গে সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের প্রতিকৃতি আঁকা নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি লেখেন, কই, গুণী হুমায়ূন আহমেদের ছবি তো দেখলাম না। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস—নাই। হাসান আজিজুল হক—নাই। আজম খান—নাই। কামরুল হাসান—নাই!
তারা বলবেন জায়গা তো অল্প! তো যদি জায়গা এত অল্পই থাকে তাইলে তো গুণের তুলনামূলক বিচার করতে হবে।
তার তাছাড়া দেশের লোকের গুণ প্রচার তো আগে। ভারতীয় গুণী ব্যক্তিদ্বয়ের ছবি সম্প্রচারের কারণ কী? দেখলাম কৌশলগত ভাবে দুই ভারতীয় বুদ্ধিজীবীর ছবিও টাঙানো হইছে। বিদ্যাসাগর ও সত্যজিৎ। এইটা ভারতের লগে আবারও আওয়ামী আমলের মত সাংস্কৃতিক নির্ভরশীলতা শো করার ঘোষণা কি? কারা এই কাজ শুরু করলেন?