ডিজিটাল যুগের আধুনিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা কাগুজে চিঠির স্মৃতি ও ঐতিহ্যকে ফের নতুন প্রজন্মের মুখোমুখি দাঁড় করাল বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। ‘চিঠির পাতায় লেখা সত্যিকারের অনুভূতি কখনো মুছে ফেলা যায় না, মানুষ ভুলে গেলেও শব্দগুলো হৃদয়ে নিজের জায়গা রেখে যায়’—এই মর্মস্পর্শী প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নওগাঁ সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমী এক ‘চিঠি উৎসব’।
সোমবার (১২ অক্টোবর) নওগাঁ সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। সকাল থেকেই উৎসবকে ঘিরে কলেজ চত্বরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
উৎসবে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে চিঠি পাঠানোর ব্যবস্থা রাখা হয়। কেউ বাবা-মাকে, কেউ ভাই-বোনকে, আবার কেউ শৈশবের বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে উদ্দেশ করে চিঠি লেখেন। লেখা শেষে চিঠির খামে ডাকটিকিট লাগিয়ে প্রাপকের ঠিকানা লিখে কলেজ প্রাঙ্গণে স্থাপন করা অস্থায়ী লাল ডাকবাক্সে জমা দেন তারা।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ডাক বিভাগ, রাজশাহী অঞ্চলের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. রাকিব বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ উপ-ডাক বিভাগের পরিদর্শক মো. সানোয়ার হোসেন, নওগাঁ প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মু. হযরত আলী, বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতির যুগ্ম মহাসচিব মো. ইদ্রিস আলী শেখ, শহর পরিদর্শক মো. সাদ্দাম হোসেনসহ ডাক বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা।
উৎসবে অংশ নিয়ে নওগাঁ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জিয়াম শারমিন বলেন, ‘জীবনে এই প্রথমবার কাগজে-কলমে কোনো চিঠি লিখলাম। মেসেঞ্জার বা ফোনে কথা বলায় আমরা অভ্যস্ত হলেও নিজ হাতে অনুভূতি লিখে পাঠানোর যে এত আনন্দ, তা আজ না লিখলে হয়তো জানাই হতো না।’
কলেজের গণিত বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম ফয়সাল বলেন, সর্বশেষ ২০১১ সালে একটি চিঠি লিখেছিলেন তিনি। এরপর জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো ডাকচিঠি লেখার সুযোগ পেয়েছেন। বিনামূল্যে চিঠি পাঠানোর এ সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে জানিয়ে তিনি বলেন, ডাক বিভাগের এমন আয়োজনে তারা আনন্দিত।

ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উৎসবে শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া প্রতিটি চিঠি বিনামূল্যে প্রাপকের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হবে। তাদের ভাষ্য, দ্রুত যোগাযোগের নানা মাধ্যম চালু হলেও হাতে লেখা চিঠির আবেগ ও আন্তরিকতার আলাদা আবেদন রয়েছে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে চিঠি লেখার অভ্যাস ফিরিয়ে আনা এবং ডাকসেবা সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ানোই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।
তারা আরও জানান, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগ বিভিন্ন সেবা আধুনিকায়ন করছে। তাদের দাবি, স্পিড পোস্টের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্দিষ্ট গন্তব্যে মালামাল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের সেবার মাধ্যমে ডাক বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ও আগ্রহ বাড়বে বলে তারা আশা করেন।