Image description

ফেসবুকে পরিচয়, এরপর প্রেমের সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের টানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় এসেছেন দুই সহোদর যুবক। প্রেমিকাকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে তাদের বাংলাদেশে আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও চাঞ্চল্য।

সোমবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামে সানোয়ার হোসেনের বাড়িতে গিয়ে ওই দুই ভারতীয় যুবকের দেখা পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় ওই দুই নাগরিক হলেন ফারুক চাপরাশি ও মুর্শিদ চাপরাশি। পাসপোর্ট ও ভিসার তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুর এলাকার বাসিন্দা।

মানচিত্রদেখুন

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিনপুর গ্রামের সানোয়ার হোসেনের মেয়ে পূর্ণিমার সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় ফারুক চাপরাশির। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্ককে বিয়েতে রূপ দিতে গত ৮ অক্টোবর ভারতের কলকাতা থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে বাংলাদেশে আসেন ফারুক ও তার ভাই মুর্শিদ। বর্তমানে তারা পূর্ণিমার বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, ভারতীয় দুই যুবকের আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের দেখতে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। তবে পূর্ণিমা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওই দুই যুবকের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয়দের কথা বলতে দিচ্ছেন না৷

পূর্ণিমার ভাই লিখন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশ করলে সরাসরি গলা কেটে ফেলব।’ বাড়িতে আসা অতিথিদের সম্মানহানির আশঙ্কায় তাদের সঙ্গে কাউকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

সংবাদপোর্টা

 

পূর্ণিমার বাবা সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘এখন ছেলে-মেয়েরা মোবাইল ফোনে প্রেম-ভালোবাসা করে। ওই ছেলে ও তার বড় ভাই পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে ৮ অক্টোবর বেনাপোল হয়ে আমার বাড়িতে এসেছেন। আমরাও পাসপোর্ট-ভিসা করার ব্যবস্থা করেছি। ভিসা পেলে ভারতে গিয়ে তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিয়ের অনুষ্ঠান করা হবে। তখন আপনাদেরও জানানো হবে।

কালাই উপজেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডিএসবি মেহেদী বলেন, বিদেশি কোনো নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করে যে উপজেলায় অবস্থান করবেন, সে ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা নিকটস্থ থানাকে অবহিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এইমাত্র জানলাম, গত তিন দিন ধরে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামে সানোয়ারের বাড়িতে ভারত থেকে আসা দুই যুবক অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল আলম বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। আমরা খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।’