Image description

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে প্রস্তাবিত সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ই-মেইল বার্তায় দেশটির আপত্তির বিস্তারিত উঠে এসেছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইকোনমিক মিনিস্টার ফজলে রাব্বি তৎকালীন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান (বর্তমানে ইনভেস্ট বাংলাদেশ চেয়ারম্যান) আশিক চৌধুরীকে এ বিষয়ে ই-মেইল করেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের তীব্র আপত্তির পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে।

 

ই-মেইল বার্তায় শুধু সি-ক্যাবল নিয়ে আপত্তি জানানো হয়নি বরং এর কার্যক্রম স্থগিত করা না হলে ভবিষ্যতে কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বিনিয়োগ করবে না বলেও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এআই-ভিত্তিক ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলেও চীনের হুয়াওয়ে মেরিন নির্মিত এবং মিয়ানমার থেকে সিঙ্গাপুরগামী ‘সিগমা ক্যাবল’-এর সঙ্গে দেশের সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে টেক জায়ান্ট গুগল, ফেসবুক ও অ্যামাজনের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য বিনিয়োগকে এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইকোনমিক মিনিস্টার ফজলে রাব্বিকে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পাঠানো ই-মেইল এবং বিডা চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানানোর মেইলের কপি আমার দেশ হাতে পেয়েছে।

 

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় থাকা একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টা তিনি শুনেছিলেন। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো নথি তখন দেখেননি।

ইকোনমিক মিনিস্টার ফজলে রাব্বিকে ই-মেইলটি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা লরা এন্ডারসন।

 

ই-মেইলের সঙ্গে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন কেবল স্থাপনের জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত মেটাকোরের প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য এডিবির কাছে চাওয়া ঋণ প্রস্তাবের নথি সংযুক্ত করা হয়। ই-মেইলটি পরবর্তীতে ফজলে রাব্বি ফরওয়ার্ড করেন বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীকে। ই-মেইলের কপি দেওয়া হয় ইআরডি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এডিবির প্রতিনিধিদেরও।

 

এ বিষয়ে জানতে ফজলে রাব্বি, লরা এন্ডারসন ও আশিক চৌধুরীকে আমার দেশ-এর পক্ষ থেকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ই-মেইল করা হয়। আশিক চৌধুরী ও ফজলে রাব্বিকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তাও পাঠানো হয়েছে।

 

পরবর্তীতে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে গত ৫ অক্টোবর যোগাযোগ করে [email protected] ঠিকানায় মেইল করতে বলা হয়। সেদিনই মেইল করা হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জবাব মেলেনি।

 

এছাড়াও ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর পক্ষ থেকে জনসংযোগ কর্মকর্তা তাসনিম সিকদার গত ৬ অক্টোবর এই প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ৭ অক্টোবর আপডেট দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এরপর ৮ অক্টোবর তার সঙ্গে ফের যোগাযোগ করা হলে তিনি বার্তা দেন, ‘আমরা ইকোনমিক মিনিস্টার ফজলে রাব্বি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তার সাড়া পেলেই জানাতে পারব।’

 

কী আছে ই-মেইলে

ই-মেইলে বলা হয়, মেটাকোর সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পের জন্য মেটাকোর সাবকম লিমিটেডকে প্রস্তাবিত ঋণের বিষয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি (অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বোর্ডে ভোট হওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই মেইলে জানানো হয়, প্রকল্পটি নিয়ে তাদের গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। মার্কিন পক্ষ জানায়, ঢাকায় থাকা তাদের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারকে এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তবে বিষয়টি আরো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছেও তা জানানো প্রয়োজন বলে তারা মনে করেছে।

 

সেই মেইলে আরো বলা হয়, মেটাকোরের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, ক্যাবলটির আয়ুষ্কাল সীমিত এবং প্রকল্পটি বাংলাদেশে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

 

ঢাকায় অনুষ্ঠিত আলোচনার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, অন্তর্বর্তী সরকারও (মেইলটি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পাঠানো) প্রকল্পটির প্রতি সমর্থনশীল নয়। এ অবস্থায় বাংলাদেশকে ঢাকায় ও ম্যানিলায় এডিবির প্রতিনিধিদের কাছে প্রকল্পটির বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা জানাতে এবং প্রকল্পটি এডিবির বোর্ডের বিবেচনা থেকে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাতে বলা হয়।

 

এতে আরো বলা হয়, প্রকল্পটি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এডিবির কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রকল্পটি নিয়ে এই বার্তা বাংলাদেশ সরকারের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ই নেতৃত্ব দেবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মনে করা হয়েছে। এ কারণেই বিষয়টি ফজলে রাব্বিকে সরাসরি জানানো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে এডিবির কাছে এই বার্তা ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পৌঁছানো প্রয়োজন বলেও ই-মেইলে উল্লেখ করা হয়।

 

স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে পাঠানো ই-মেইলে তিনটি বিষয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সরাসরি তুলে ধরা হয়েছে।

 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ

প্রকল্পের ঠিকাদার এইচএমএন টেকনোলজিসকে (সাবেক Huawei Marine Networks) যুক্তরাষ্ট্র ‘untrusted’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি US Commerce Entity List-এ রয়েছে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এটিকে PLA-এর ‘cyber intelligence-affiliated entity’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে ই-মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পরবর্তীতে খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিস্তারিত অনুসন্ধানে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির মুখে বিভিন্ন দেশে একাধিক আন্তর্জাতিক ক্যাবল স্থাপনের চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিমিউই-৬ ক্যাবল এবং ট্রান্স প্যাসিফিক ক্যাবল (চিলি ও অস্ট্রেলিয়া)। এছাড়াও নির্মিতব্য অনেক ক্যাবল তাদের রুট পরিবর্তন করে চীনকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে নতুন রুটে তাদের ক্যাবল স্থানান্তর করেছে।

 

‘আনট্রাস্টেড’ বা অনিরাপদ হিসেবে উল্লেখ করার পেছনে মূলত সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে এবং এর সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি অবকাঠামো নিয়ে সম্ভাব্য সাইবার নজরদারি, অননুমোদিত তথ্য সংগ্রহ এবং গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোতে নজরদারির ঝুঁকির কথা বলে আসছে। সাবমেরিন কেবল আন্তর্জাতিক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হওয়ায় এর নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় সরবরাহকারীর প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকতে পারে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা চীন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততাকে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামোর জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।

 

UMO ট্রাংক ক্যাবলের সঙ্গে সংযোগ নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি

ই-মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে, মেটাকোরের প্রস্তাবিত ক্যাবলটি পুরোনো ও ‘আনট্রাস্টেড’ UMO ট্রাংক ক্যাবলের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে এবং নতুন ক্যাবলটির দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। UMO ক্যাবলটি বর্তমানে সিগমার (সিংগাপুর-মিয়ানমার) নামে পরিচিত। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে চালু হয়েছে এটি। স্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ওই বছরের জুলাইয়ে। অর্থাৎ ক্যাবলটির লাইফটাইম ইতোমধ্যে তিন বছর অতিক্রম করেছে। ফলে পুরোনো ক্যাবলে যুক্ত হবে বাংলাদেশ।

 

বাংলাদেশে মার্কিন প্রযুক্তি বিনিয়োগের সম্ভাব্য প্রভাব

স্টেট ডিপার্টমেন্টের ই-মেইলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আনট্রাস্টেড এই প্রকল্প যদি চলমান থাকে তাহলে বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতে বিনিয়োগ করবে না মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো।

 

খাতসংশ্লিষ্ট একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য বেশ উদ্বেগজনক। বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনি লক্ষ্য হলো ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা, দেশে এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা এবং ফেসবুক, গুগল ও অ্যামাজনের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টার দেশে স্থাপনে উৎসাহিত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক, গুগল ও অ্যামাজনের মতো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টারসহ বৃহৎ ডিজিটাল অবকাঠামো দেশে আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু হুয়াওয়ে মেরিনের নির্মিত সিগমার ক্যাবলের সঙ্গে বাংলাদেশ যুক্ত হলে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রশ্ন সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান উপেক্ষা করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে সিঙ্গাপুর প্রান্তে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি হুয়াওয়ে-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো থেকে দূরত্ব বজায় রাখে, তাহলে এর প্রভাব শুধু সাবমেরিন ক্যাবল খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বাংলাদেশের সামগ্রিক ডিজিটাল অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার, ক্লাউড কম্পিউটিং, ব্যাংকিং, ই-কমার্স, সফটওয়্যার ও আইটি সেবা রপ্তানির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সংযোগের ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

যা বলছে মেটাকোর

এ বিষয়ে মেটাকোরের অন্যতম মালিক ও আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিমের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তাকে জানানো হয়, মেটাকোরের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হাইপারস্কেলারদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ না করার বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধিরা ই-মেইলের মাধ্যমে সরাসরি বাংলাদেশ সরকারকে সতর্ক করেছে। একই বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়েও মার্কিন প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

 

জবাবে আমিনুল হাকিম বলেন, ‘মেটাকোরের কার্যক্রমে আগে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু উদ্বেগ বা নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, হুয়াওয়ের পরিবর্তে নোকিয়া ও ইনফার্নার প্রযুক্তি গ্রহণ করার পর এবং মার্কিন ওয়ার্ক অর্ডার নিশ্চিত হওয়ার পর সেই বাধা কেটে গেছে। এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত চিঠি দেওয়া হয়নি, তবে সমঝোতার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি টিম মেটাকোরের অফিস পরিদর্শনে আসে। পরবর্তীতে নোকিয়ার সঙ্গে চুক্তি সইয়ের সময় ফিনল্যান্ডের দূত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এই চুক্তির পর সার্বিক পরিস্থিতি পুরোপুরি নমনীয় ও সহজ হয়ে আসে।’

 

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে প্রজেক্টটির প্রয়োজনীয় মোট ৯টি এনওসির মধ্যে সাতটি ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। বাকি রয়েছে কেবল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এনএসআইয়ের অনুমতি। এনএসআইয়ের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আপত্তি বা মতামত জানানো হয়নি। মূলত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উদ্বেগ শুরু হলেও ২০২৬ সালের শুরুর দিকে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রমটি চূড়ান্ত অগ্রগতি লাভ করে।’

 

আমিনুল হক এমন দাবি করলেও আমার দেশ-এর অনুসন্ধানে পাওয়া নথিপত্রে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। নথি অনুযায়ী, মেটাকোর নোকিয়ার সঙ্গে টার্মিনাল ইকুইপমেন্ট সরবরাহের চুক্তি করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। অথচ মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সংশ্লিষ্ট ই-মেইলটি বাংলাদেশ সরকারকে পাঠানো হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, অর্থাৎ নোকিয়ার সঙ্গে চুক্তির প্রায় দুই মাস পর।

 

ফলে নোকিয়া থেকে টার্মিনাল ইকুইপমেন্ট কেনার পরই যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি বা কথিত নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে আমিনুল হাকিমের এমন দাবির সঙ্গে নথির সময়ক্রমের মিল পাওয়া যায়নি। বরং নোকিয়া থেকে ইকুইপমেন্ট কেনার পরেও নিষেধাজ্ঞা না ওঠার বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়েছে।