Image description

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যানোপি থেকে শুরু করে পুরো বহিরাঙ্গনে এখনও ফেরেনি শৃঙ্খলা। ক্যানোপিতে যাত্রী ও স্বজনদের ভিড়ের পাশাপাশি রয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, গাড়ির দালাল ও অপ্রয়োজনীয় লোকজনের অবাধ বিচরণ। কোথাও বসে আছেন যাত্রীর স্বজন, কোথাও ঘাস বা সিঁড়িতে মানুষের জটলা। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বদলে অনেকটা বাস বা লঞ্চ টার্মিনালের মতোই দেখাচ্ছে পুরো এলাকা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরেজমিন বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে এমন চিত্র দেখা গেছে।

চারদিকে মানুষের ঢল

বিমানবন্দরের চৌরাস্তা থেকে ভেতরে প্রবেশের পরই শুরু হয় মানুষের জটলা। প্রবেশপথের হাতের বাঁ পাশে বড় ডিভাইডারের ওপর বসে থাকতে দেখা যায় অনেককে। কিছুদূর এগিয়ে আগে যেখানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ছিল সেখানে ঘাসের ওপরও বসে ছিলেন অনেকে। বহুতল কার পার্কিং ও বহির্গমন পথের পাশেও ছিল মানুষের ভিড়।

আগমনী ক্যানোপি ১ ও ২-এর সামনে এবং বহির্গমন ক্যানোপির সিঁড়িতেও ছিল মানুষের জটলা। যাত্রীদের স্বজনের পাশাপাশি অনেকে শুধু বিমানবন্দর দেখতে এসেছেন বলেও জানান।

 

কয়েক দিন গেট ভিক্ষুকমুক্ত থাকলেও ফের শুরু হয়েছে ভিক্ষুকদের উৎপাত। ফলে বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গণের বিভিন্ন অংশে তৈরি হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ।

সৌদি আরব থেকে ফেরা এক যাত্রী আক্তারুলকে নিতে এসেছেন নারী-পুরুষসহ ছয়জন স্বজন। ক্যানোপি ১-এর এক পাশে তাদের বসে থাকতে দেখা যায়। তাদের একজন বলেন, ছয় বছর পর ভাই দেশে ফিরছেন। তাই ভাই-বোন, স্ত্রী ও সন্তানসহ সবাই এসেছেন।

অনেকক্ষণ ধরে বিমানবন্দরে বসে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকক্ষণ বাইরে ছিলাম। এ কারণে এখন এসে সবাই মিলে বসে আছি। ভাই এলে নিয়ে চলে যাব। আমরা হাইস নিয়ে এসেছি, আমাদের কেউ কিছু বলেনি।’

বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে বিশৃঙ্খলা আর কতদিন

মুন্সিগঞ্জের সাইফুল ইসলামের পরিবারের আটজনও এসেছেন তাকে স্বাগত জানাতে। সৌদি আরব থেকে ফেরার অপেক্ষায় থাকা সাইফুলের ভাই হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা তো আর প্রতিদিন আসি না। ভাই আসতেছে, সবাইকে নিয়ে আসলাম। বিমানবন্দরে আমাদের কেউ কিছু বলেনি।’

কুমিল্লার আব্দুর রহমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা থেকে ফিরছেন। তাকে নিতে পরিবারের সাতজন এসেছেন। তার ভাই একরামুল হক বলেন, ‘আমরা জানতাম না দুইজনের বেশি আসা যাবে না। ভাই পাঁচ বছর পর আসতেছে। তাই পরিবারের সবাই আসছি।’

তারা সকাল ৯টার দিকে বিমানবন্দরে এসেছেন জানিয়ে একরামুল বলেন, তার ভাইয়ের ফ্লাইট ছিল দুপুর ২টায়। দীর্ঘ সময় কীভাবে কাটিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘোরাফেরা করলাম।’

যাত্রীর স্বজনদের পাশাপাশি বিমানবন্দরে অপ্রয়োজনীয় লোকজনের উপস্থিতিও দেখা গেছে। আব্দুল হান্নান নামে এক ব্যক্তি জানান, তার কোনও যাত্রী নেই। শুধু বিমানবন্দর দেখতে ক্যানোপিতে এসেছেন। তাকে কেউ বাধা দিয়েছে কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘কেউ কিছু বলেনি।’

গাড়ির দালালের দৌরাত্ম্য

বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট অনুমোদিত গাড়ি সার্ভিস থাকলেও এর বাইরে বিভিন্ন জায়গায় গাড়ির দালালদের দৌরাত্ম্য দেখা গেছে। ডোমেস্টিক ও আন্তর্জাতিক—দুই টার্মিনালেই যাত্রীদের ডাকাডাকি, গাড়ির দরদাম করতে দেখা যায় তাদের।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সামনেই দালালদের এমন তৎপরতা চললেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনও ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

সর্বত্র সিএনজিচালিত অটোরিকশা

বিমানবন্দরের আগমনী ও বহির্গমন এলাকা থেকে শুরু করে ডোমেস্টিক টার্মিনাল—সব জায়গাতেই রয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। ক্যানোপির ভেতরে-বাইরে, ক্যানোপি থেকে নামার রাস্তায়, বহির্গমন ক্যানোপি ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে দুই-তিনটি, কখনও চার-পাঁচটি সিএনজি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

মসজিদের পাশেও রয়েছে সিএনজি। চালকরা ক্যানোপির ভেতরে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের ডাকাডাকি করছেন। অথচ তাদের এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বা যাত্রী ডাকার ক্ষেত্রে কোনও বাধা দিতে দেখা যায়নি।

বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে বিশৃঙ্খলা আর কতদিন

বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গণের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গণের পুরো বিষয়টি দেখে এপিবিএন। এখন তারা যদি ইনঅ্যাকটিভ থাকে, তাহলে আসলে বলার কিছু নেই।’

তিনি বলেন, বহিরাঙ্গণের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে তাদের বলা হলেও তারা অনেক সময় আদেশ মানে না। ‘তারা আসলে কারও আদেশ মানে না, তাদের মনমতো থাকে’—বলেন ওই কর্মকর্তা।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বহিরাঙ্গণের এই বিশৃঙ্খলা কবে দূর হবে—এ প্রশ্নই এখন ঘুরছে যাত্রী ও স্বজনদের মধ্যে।