Image description

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড’ এখন রাতের বেলা এক আতঙ্কের নাম। বিপুল অর্থ ব্যয়ে স্থাপিত সড়কবাতির অধিকাংশ চুরি হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের বড় অংশই থাকছে সম্পূর্ণ অন্ধকারে। আর এ সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী ও ডাকাতদের ‘হোন্ডাবাহিনী’।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে সাইনবোর্ড থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত সড়কটিতে সড়কবাতি ও সাইন সিগন্যাল স্থাপনে ব্যয় করা হয়েছিল প্রায় ১৬ কোটি টাকা। পুরো সড়কে ৭৪টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বাতি বসানো হলেও বর্তমানে ল্যাম্পপোস্টগুলো বাতিহীন কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে আছে। ফলে অন্ধকার নামলেই গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে চলাচলকারী পথচারী, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও দূরপাল্লার চালকদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লিংক রোডে মোটরসাইকেলে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বাড়ে। অনেক সময় উল্টোপথে এসে চলন্ত যানবাহন ও পথচারীদের গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। এরপর মোবাইল, টাকা ও স্বর্ণালংকার কেড়ে নিয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। ভোরে এ ঝুঁকি আরো বাড়ে যখন স্থানীয় মাছ ও সবজি ব্যবসায়ীরা যাত্রাবাড়ী আড়তের উদ্দেশে রওনা হন। এছাড়া দূরপাল্লার বাস থেকে নামা যাত্রীরাও নিয়মিত এদের কবলে পড়ছেন।

গত ৩ অক্টোবর ভোরে একটি চলন্ত বাসে অস্ত্রের মুখে প্রায় ২৫ জন যাত্রীর সর্বস্ব লুটের ঘটনা-এর ভয়াবহতার প্রমাণ দেয়। পুলিশের টহল থাকলেও তা অপরাধীদের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না। ফতুল্লা মডেল থানার দুটি টহল টিম দায়িত্ব পালন করলেও তাদের পুরোনো ও জরাজীর্ণ যানবাহন দিয়ে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলধারী ছিনতাইকারীদের ধরা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া হয়রানির ভয়ে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ না করায় অপরাধের প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। ১৬ কোটি টাকার আলো কেন এভাবে নিভে গেল এবং চুরির পর কেন দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহীম জানান, সড়কটি সার্ভে করা হয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাতি পুনঃস্থাপন করা হবে। তবে তিনি চুরি ঠেকাতে পুলিশের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর জোর দেন।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু নতুন বাতি লাগালেই সংকটের সমাধান হবে না; সরকারি অর্থের অপচয় রোধে এবং লাখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসানো, পর্যাপ্ত পুলিশি নজরদারি ও দ্রুতগতির টহল যান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।