সোনাইমুড়ী উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না হওয়া, প্রতিটি দলিলের বিপরীতে মোটা অঙ্কের ঘুস নেওয়াসহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দলিলের খারিজসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকার পরও মোটা অঙ্কের উৎকোচ না দিলে সাবরেজিস্ট্রার দলিলে স্বাক্ষর করেন না বলে অভিযোগ করেছেন দলিল লেখক, দাতা ও গ্রহীতারা।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে সাবরেজিস্ট্রার সপ্তাহে তিন দিনের বেশি অফিসে উপস্থিত থাকেন না। এ নিয়ে সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে দ্বিগুণ উৎকোচের বিনিময়ে জাল কাগজপত্র দিয়েই দলিল করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় যেসব গ্রহীতা উৎকোচ দিতে অনিচ্ছুক তারা দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আর যারা বাধ্য হয়ে উৎকোচ দিচ্ছেন তারা সীমাহীন ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিন সাবরেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে দেখা যায়, দাতা গ্রহীতাদের মধ্যে যারা সাবরেজিস্ট্রার কর্তৃক দলিলপ্রতি নির্ধারিত উৎকোচ জমা দিচ্ছেন তাদের দলিলে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে এজলাসে দাখিল করা হচ্ছে। আর যারা উৎকোচ দিচ্ছেন না তাদের কাগজপত্রে বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলামের চাহিদা অনুযায়ী ঘুস না দেওয়ায় গত বছর মার্চ মাসে বারাইপুর গ্রামের গ্রহীতা শাহাদাত দাতা জয়নাল আবদিন ২১১ নম্বর দলিল থেকে দুটি সাব-কবলা দলিল করে দেন। তার কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা নেন। অথচ ২১১ নাম্বার দলিলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের তদন্ত প্রতিবেদনের সেই নিজের দলিল করেও জাল দলিল লিখে প্রতিবেদন দিয়ে পাঁচজনকে কারাগারে পাঠান।
দীন মোহাম্মদ অভিযোগ করেন, উৎকোচ না দেওয়ায় কাগজের ত্রুটি দেখিয়ে গত সপ্তাহে তাদের দলিলটি ফেরত দেওয়া হয়। সাত দিন হয়রানির পর মঙ্গলবার অফিসের সাইফুল আলমের কাছে ১ হাজার ৩০০ টাকা ঘুস দিলে দলিল জমা নেওয়া হয়।
বারাইপুর গ্রামের শাহাদাত অভিযোগ করেন, সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলাম যোগদানের পর থেকে সাব-কবলা দলিলপ্রতি ১ হাজার ৩০০ টাকা, হেবার ঘোষণা দলিলপ্রতি ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা প্রকাশ্যে ঘুস নিচ্ছেন। আর কাগজের ত্রুটি থাকলে আরও অতিরিক্ত ৬০০ টাকা দিতে হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় এমন কয়েকজন দলিল লেখককে তিনি অপমান করে অফিস থেকে বের করে দিয়েছেন।
অফিস সহকারী মোল্লার মাধ্যমে তিনি এই ঘুসের টাকা নিচ্ছেন। দলিল লেখক সমিতির সম্পাদক বলেন, ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দলিলের ক্ষেত্রে পে-অর্ডার বাদে ২ শতাংশ টাকা হাতে নেওয়ার নিয়ম আছে। এছাড়া আর কোনো টাকা নগদ নেওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু আমরা অফিসারদের কাছে জিম্মি। তার বিরুদ্ধে কথা বললে দলিল লেখকদের বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলাম বলেন, জেলা রেজিস্ট্রারকে অবগত করেই তিনি অফিসে অনুপস্থিত থাকেন। আর ঘুস নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।