Image description

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বাচ্ছতা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভাউচার সংরক্ষণ করতে হয়। তবে এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহজালাল। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বড় কেনাকাটায় সাদা কাগজে ভাউচার করে সেগুলো সংরক্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এতে প্রকৃতপক্ষে ব্যয় দেখানো হলেও জিনিসপত্র ক্রয় করা হয়নি বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষক।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, ছোট ক্রয়ের ক্ষেত্রে সাদা কাগজে ভাউচার করা যেতে পারে। তবে লাখ টাকা ব্যয় করে ক্রয়ের যথাযথ ভাউচার সংরক্ষণ না করা গুরুতর অনিয়ম। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খতিয়ে দেখতে হবে।’

পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নোট শীট-০১/২৪ এ এক লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও ভাউচার করা হয়েছে সাদা কাগজে। একইভাবে নোট শীট-০৩/২৪ এ ১০ লাখ ৯৫ হাজার ৪২৭ টাকা, নোট শীট-০৪/২৪ এ ৫ লাখ ৮০ হাজার ৯১৯ টাকা ৩৯ পয়সা, নোট শীট-০৭/২৫ এ ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৯৯ টাকা ৭১ পয়সা, নোট শীট-০৫/২৬ এ ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩০৬ টাকা ৮৬ পয়সা, নোট শীট-১০/২৬ এ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৩৩ টাকা ব্যয়ের সাদা কাগজে ভাউচার পাওয়া গেছে।  অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ২৯ লাখ ৬ হাজার টাকা ব্যয়ের সাদা কাগজে ভাউচার করা হয়েছে।

সাদা কাগজের ভাউচার ছাড়াও বিভিন্ন ভ্রমণে ট্রেন ভাড়ার কথা উল্লেখ থাকলেও টিকেট বা ট্রেন অনু অনুপস্থিত থাকা, বেঞ্চ মেরামতের খরচে গ্রহীতার স্বাক্ষর না থাকা এবং কোনো কোনো ভাউচারে খরচের স্পষ্ট বিবরণ না থাকার মতো নানা আর্থিক অসংগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এসব ভাউচার ও ব্যয়কে সরকারি বিধি-বহির্ভূত ও অসংগতিপূর্ণ হিসেব হিসেবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীরা।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির এক শিক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের তত্ত্বাবধানের প্রতিষ্ঠানের মালামাল ক্রয় করা হয়েছে। সাদা কাগজে ভাউচার করা হয়েছে মূলত অর্থ লুটপাটের জন্য। যতগুলো অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে, এত অর্থ এই কাজে ব্যয় হওয়ার কথা না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত)  মো. শাহজালাল বলেন, ‘এগুলো ভুয়া। আপনি আমার প্রতিষ্ঠানে আসেন। সাক্ষাতে গল্প করবো।’

এদিকে পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক  শাহজালালের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও অসদাচরণের অভিযোগে সম্প্রতি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়টির ৬৫টি দোকান ঘরের ভাড়া আদায়ে অনিয়ম করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহজালাল। তিনি নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে তিনটি দোকানঘর নামমাত্র ভাড়ায় বরাদ্দ নিয়ে তা অধিক ভাড়ায় অন্যের কাছে প্রদান করে আর্থিক সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছেন । এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ৩১ জুলাই ২০২৩ তারিখের প্রজ্ঞাপন অমান্য করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক হয়েও বিদ্যালয় ফান্ড থেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতন গ্রহণ এবং অন্যান্য এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রায় ১২ লাখ টাকা বেতন প্রদান করেছেন। পীরগঞ্জের সাবেক ইউএনও তাছবীর হোসেনের বদলির দিন বিদ্যালয় ফান্ড থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ছয় মাসের বেতন পরিশোধ করা হলেও প্রভাতি শাখার চাকরিচ্যুত ১০ জন শিক্ষকের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেন নি তিনি। এসএসসি ২০২৫ পরীক্ষার কেন্দ্র ফি থেকে আদায়কৃত অর্থের ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার আয় থেকে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে অর্থ তছরুপ করেছেন শাহজালাল সাজু। 

এছাড়া ২০২৫ সালে একটি প্রকাশনীর কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা গ্রহণ করে পিকনিক খাতে ৬০ হাজার টাকা ব্যয় দেখিয়ে অবশিষ্ট টাকা আত্মসাতের করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে অভিভাবক সদস্যকে আহ্বায়ক দেখানো হলেও তাকে অবহিত না করে উন্নয়নের নামে মোটা অংকের অর্থ ব্যয় দেখানোর অভিযোগও করা হয়।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহজালাল বলেন, আমার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।