Image description

নিউগিনি প্রোপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে অবৈধভাবে প্রবেশ করে ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মো. মিজানুর রহমানসহ তিনজনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার মিজানুর কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মিজানুরকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। রিমান্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি হলেন শাহরিয়ার মাহমুদ (৬০) এবং মো. শাহ আলম ওরফে অনিক(৪৭)।

এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আল আমিন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফারুক হোসেন ফারুকী আদালতে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘নিউগিনি প্রপার্টিজকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। সেখানে সালমান মুক্তাদির নামে একজনের একটি স্টুডিও ছিল। পারিবারিক বিরোধের জেরে ওই স্টুডিওতে ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। সারা দিন রাত প্রচারণা চালিয়ে বিএনপি এই কাজ করেছে৷ বিএনপি সরকার এই ধরনের কাজ নিয়ে চাপে পড়েছে।’

 

তিনি বলেন, ‘এই মামলার আসামি দিদারুল হক জামায়াতে ইসলামীর অন্য এক এমপির জামাতা। ঘটনার পর জামায়াতের আমির যখন ব্রিফিং দেন, তখন এই আসামিকে ওই এমপির পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ওই ব্রিফিংয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, হামলার সময় সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। পুলিশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এসব অস্ত্র তারা কোথা থেকে পেল এবং ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত—তা জানতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

 

 

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করে বলেন, ‘নিউগিনি প্রপার্টিজকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে অনেক সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। সেখানে সাইফুল চাঁদাবাজি করতেন। আমরা সেখানে কোনো কিছু করতে গেলে চাঁদা দিতে হতো। আমরা সেখানে কোনো দাঙ্গাবাজি করতে যাইনি।’

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করলেও এজাহার নামীয় পলাতক আসামিদেরকে গ্রেপ্তার, অজ্ঞাতনামা আসামিদের পূর্নাঙ্গ নাম ঠিকানা সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র, চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার, ঘটনার মূল রহস্য উৎঘাটনের লক্ষ্যে নিবিড় ও গভীরভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড পাওয়া প্রয়োজন।

 

আদালতে রিমান্ডের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী যুক্তি তুলে ধরেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন দক্ষিন মানিকদীর ইসিবি চত্বর নিউগিনি প্রোপোর্টিজ লিমিটেড’-এর প্রকল্প এলাকায় আনুমানিক ৫০ জন দুষ্কৃতকারী হয়ে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। এসময় তারা এলোপাতাড়ি প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

 

আরও বলা হয়, হামলাকারীরা প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বিআরবি ক্যাবল, ক্যামেরা ও প্রফেশনাল মিডিয়া ইকুইপমেন্টসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে বাদী প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি এবং এক কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ওই সময়ে আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস’ স্টুডিওতে অনাধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

এই ঘটনায় প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।