রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ড. কনক সরওয়ারের এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিষ্টিকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। লিখিতভাবেও তাকে এ নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মিষ্টিকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতার মাধ্যমে ওই নির্দেশনা তার কাছে পৌঁছেছে বলেও সূত্রের দাবি। তবে মিষ্টির পদত্যাগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। তবে তিনি হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন। বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এ ঘটনার মধ্যেই বিএনপির সাংগঠনিক পর্যায়ে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রাড্ডা সেন্টারের ঘটনায় মিষ্টির বিরুদ্ধে বিএনপি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে—এমন তথ্যও দল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের বরাতে প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের অনুরোধ জানানোর বিষয়টি দলের উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে বলেও জানা গেছে।
তবে মিষ্টি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না, কিংবা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসেছে কি না—তা এখনো নিশ্চিত নয়।