ফিফা আসিয়ান কাপে আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দুদলের ম্যাচটি শুরু হবে। এরই মধ্যে টুর্নামেন্টে প্রথম দুই ম্যাচে হেরে (মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ এবং সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে) হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের। তাই তাদের জন্য ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার। তবে এই ম্যাচটিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে খেলছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চান হামজা-শমিত, জামালরা। একই দিন অপর ম্যাচে সি জালাক হারুপাত স্টেডিয়ামে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর পরস্পরের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায়।

টুর্নামেন্টে দুই ম্যাচ খেলে একটিতেও হারেনি ইন্দোনেশিয়া। সিঙ্গাপুরকে ২-০ গোলে হারানোর পর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে তারা। উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৬৩ ধাপ এগিয়ে ইন্দোনেশিয়া। ঘরের মাঠ, পরিচিত দর্শক আর কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে আধিপত্য বিস্তার করতে চাইবে তারা। সব মিলে ইন্দোনেশিয়া ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য কঠিন এক পরীক্ষার হতে যাচ্ছে। এই ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলের তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী বলেছেন, ‘ইন্দোনেশিয়া খুবই ভালো দল। তাদের অনেক খেলোয়াড় ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলে থাকেন। তাই এটি আমাদের জন্য আরেকটি কঠিন পরীক্ষার হবে। আমাদের চেয়ে উঁচুতে থাকা দলের বিপক্ষেই লড়াই করতে আমরা এখানে এসেছি।’
ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ কঠিন হবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও। তিনি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া, ওরা অনেক আধিপত্য বিস্তার করবে। তবে আমাদের কিছু পরিকল্পনা আছে, কোচের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হবে যে, কী কী করা যায়।’ সেটপিসে শক্তিশালী ইন্দোনেশিয়া। তাদের ভালো মানের দুজন স্ট্রাইকার আছেন। তারা বাংলাদেশের রক্ষণভাগের জন্য বড় আতঙ্কের কারণ হতে পারেন। তবে ইন্দোনেশিয়ার শক্তির দিক আর দুর্বলতা—উভয় জানা জামালের। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘কালকে (আজ) আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে।’ ইন্দোনেশিয়া শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও জয়েই চোখ রাখছেন জামাল। তিনি বলেন, ‘ফুটবলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। আশা করি, আমরা ভালো পারফরম্যান্স করব। ম্যাচটি জিতলে কিংবা ড্র করলে ভালো হবে।’
সবকিছু ইন্দোনেশিয়ার পক্ষে থাকলেও দিনশেষে ফুটবলে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। এমনটা মনে করেন বাংলাদেশ কোচ থমাস ডুলি। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব। মালয়েশিয়ার ম্যাচ মতো খেলার চেষ্টা করব, আমরা লড়াই করব। প্রত্যেককে সেভাবেই প্রস্তুত হতে হবে, লড়তে হবে এবং ফুটবল খেলতে হবে। তখন দেখা যাবে, ম্যাচে আমরা কতদূর পর্যন্ত যাই।’ কোচ ডুলি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, আসিয়ান কাপ বাংলাদেশের জন্য শিক্ষামূলক টুর্নামেন্ট। সাফের প্রস্তুতির জন্যই ফিফা আয়োজিত টুর্নামেন্টটিতে অতিথি হিসেবে খেলছে বাংলাদেশ।