পাবনা শহরে বড় ধরনের নাশকতা চালিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল সুজানগর উপজেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাবসহ তার সহযোগীদের। নাশকতার প্রস্তুতিকালে হাতবোমা, দেশীয় অস্ত্র ও পাসপোর্টের ব্যাগসহ পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন তিনিসহ ১৪ জন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৬টার দিকে পাবনা শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডের ইন্দিরা মোড় থেকে তাদের আটক করা হয়। বিকেলে নাশকতার মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আটকরা হলেন সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব (৬২), তার সহযোগী মো. রাব্বি (২৩), মিথুন মিয়া (৩০), মো. হৃদয় (২০), ফয়সাল (১৮), আরাফাত হোসেন শুভ (১৮), শিমুল প্রামাণিক (১৬), মিজান প্রামাণিক (১৮), আলহাজ খাঁ (২৪), নাজমুল হাসান (১৮), মতিউর রহমান (৩২), রঞ্জু শেখ (১৭), সাবিক (১৯) এবং নাজমুল হোসেন (১৯)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের (৫ আগস্ট) পর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আটক হলেন আব্দুল ওয়াহাব। এর আগে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মথুরাপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পুলিশ ভ্যান থেকে তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় আটজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনার তিন দিন পর ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে ফের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্তি পেয়ে সুজানগর এলাকায় আবারও দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন আব্দুল ওয়াহাব ও তার সমর্থকেরা। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল রাতে মথুরাপুরে অভিযান চালিয়ে আব্দুল ওয়াহাবসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ২১ নেতাকর্মীকে আটক করেছিল পুলিশ। তবে কয়েক সপ্তাহ পর তারা জামিনে বের হয়ে আসেন।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যেই তারা একটি মাইক্রোবাসযোগে পাবনা শহরে এসেছিলেন। এখানে নাশকতা চালিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু গোপন সূত্রে আমাদের কাছে এই তথ্য আগে থেকেই ছিল। ফলে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের যৌথ অভিযানে নাশকতার প্রস্তুতিকালেই তাদের আটক করা হয়।