Image description
অনেকেই বলেন বা বলতে চান, তারেক রহমান সাহেব ভালো কিছুই করতে চান। আমার কেন যেন বিশ্বাস হয় না। আপনি কেবিনেটে এবং স্পর্শকাতর পদগুলোতে বিতর্কিত, অগ্রহণযোগ্য এবং নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ লোকজন নিয়ে ভালো কাজ কীভাবে করবেন? অথবা প্রশ্নটা এভাবেও করা যায় যে, ভালো কাজ করার নিয়ত যদি থাকেই তাহলে এরকম লোকজনের ওপর আস্থা কেন রাখলেন?
 
আমি হলফ করে বলতে পারি, ২০২৬ সালে এসে এটাই বিএনপির বেস্ট টিম নয়। অনেক প্রাজ্ঞ, বিবেচনাবোধসম্পন্ন নেতা, একাডেমিক, ও মেধাবী মানুষ বিএনপিতে আছেন। কিন্তু তাদেরকে সামনেই আনা হয়নি। বেগম জিয়ার আস্থাভাজন লোকগুলোকে স্পেস দেয়া হয়নি।
 
২৪ এর আন্দোলনের সময় কেউই প্রত্যাশা করেনি যে, এরপর এমন একটি সংসদ গঠিত হবে যেখানে একজন মন্ত্রীই সব বিষয়ে কথা বলবেন। এই একটি ঘটনাই মেনিপুলেশনের বড়ো একটা নমুনা।
 
আরেকটা বিষয়ও আছে। আপনি যদি ভালোকিছুই করতে চাইবেন, তাহলে তৃনমুলকেও সেই বার্তা দিতে হবে। তৃনমুল সেই বার্তা না মানলে তাকে শাস্তি দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পুরো সংসদ যেমন একজন সামাল দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন, তেমনি তৃনমুলও যেন একা নয়নই সামাল দিচ্ছেন।
 
সেই ইন্টেরিমের সময় থেকে তাকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। জগন্নাথের সংঘর্ষের ঘটনার দিন তাকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে লাঠি নিয়ে ঘুরতে আমরা দেখেছি। তাকে কি এজন্য কোথাও কেউ বকা দিয়েছে, শাসন করেছে? এমন কোনো নজির আছে? না নেই। উল্টো তাকে প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে। আর তাই দুদিন আগে দাড়িওয়ালাদের আস্তানা গুড়িয়ে দেয়ার মতো শ্লোগান উচ্চারণ করার সাহসও সে পেয়েছে।
 
ভালো লোকের পদায়ন এবং তৃনমুলে নিয়ন্ত্রণ না করার খেসারত বিএনপিকে দিতে হবে। বাহির থেকে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতাল ভাংছে, টিকা কেন্দ্র ভাংচুর হচ্ছে, স্টুডিও ভাংচুর হচ্ছে কিন্তু আসলে বিএনপি রেজিমটাই ভেঙে পড়ছে। সময় হলেই তা বড়ো আকারে এসে দৃশ্যমান হবে, তখন হয়তো সামাল দেয়ার সুযোগ আর হবে না।