দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পূর্বে বহিষ্কৃত ও পরবর্তীতে পুনর্বহাল হওয়া গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন মোল্লার বিরুদ্ধে পুনরায় গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
এবার তার সঙ্গে একই অভিযোগে নাম এসেছে ইউনিয়ন যুবদলের প্রস্তাবিত দপ্তর সম্পাদক নাজমুল মোল্লার। সরকারি খালে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ এবং ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক যুবককে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এই দুই নেতার বিরুদ্ধে।
এসব কাণ্ডে স্থানীয় যুবদলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় যুবদলের একাধিক সূত্র জানায়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি সুজন মোল্লাকে বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ৪ এপ্রিল সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে পুনর্বহাল করা হয়। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পুনর্বহালের পর পুনরায় দলীয় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন বির্তকিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
সম্প্রতি সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লার বিরুদ্ধে বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নের তুলাতলা এলাকার একটি সরকারি খালে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় ছরোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, আমি ঢাকা থেকে এসে জানতে পারি যে সুজন মোল্লা নাজমুল মোল্লা ও জালাল মোল্লা সরকারি হালটে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করার জন্য পাইলিং করেছেন। সরকারি খালের জায়গা এভাবে আটকে দেওয়ায় অভিযোগে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
তবে খালে বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করে সুজন মোল্লা বলেন, ‘খালের সঙ্গে আমাদের প্রায় ২০ বিঘা জমি রয়েছে। জমিগুলো পতিত থাকে। অন্যদিকে খালটিও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। যে কারণে বাঁধ দিয়ে পুরো জায়গাটি মাছ চাষের আওতায় আনতে চাচ্ছি। তবে সরকারি জায়গা এভাবে আটকানোটা ঠিক হয়নি।’
এদিকে রিফাত বিশ্বাস নামে এক যুবককে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আটকে রেখে টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লার বিরুদ্ধে।
বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের কয়েকজন নেতার দাবি, রিফাতকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে তার পরিবারের কাছে ৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলেও তাদের দাবি।
এ ঘটনার মধ্যস্থতাকারী বাচ্চু হাওলাদার বলেন, ‘রাত ১০টার দিকে রিফাতের বাবা আমাকে জানান, তার ছেলেকে নাকি ডিবি পুলিশ আটক করেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি কোনো ডিবি পুলিশ না সুজন মোল্লাসহ কয়েকজন ছেলেটাকে আটকে রেখেছেন। পরে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে রিফাতকে ছাড়িয়ে দিই। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ায় পরে ওই টাকা রিফাতের পরিবারের হাতে পৌঁছে দিই।’
তবে ডিবি পুলিশ পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লা। তাদের দাবি, মাদকসহ রিফাতকে আটক করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এসব ঘটনায় বান্ধাবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতার অভিযোগ, ব্যক্তি বিশেষের এমন কর্মকাণ্ডের প্রভাব পুরো সংগঠনের ভাবমূর্তিতে পড়ছে। তাদের দাবি, সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি উপজেলা পর্যায়ের সিনিয়র নেতাদের জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মান্নান শেখ বলেন, ‘সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো দলীয় ফোরামে আলোচনা করা হবে। আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’