সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন তামান্না। নিজ উপজেলা চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ থানার মেরিট লিস্টে প্রথম এবং পুরো জেলায় ১১তম হয়েছিলেন তিনি। তবে দীর্ঘ আট মাস অপেক্ষার পরও নিয়োগপত্র পাননি। বৃহস্পতিবার পুলিশ ও এনএসআইয়ের ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ায় তার নামে কোনো নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি। তামান্নার দাবি, তাকে ‘পলিটিক্যাল ট্যাগ’ দিয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি কিংবা তার পরিবারের কেউ কোনো সময় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না।
নিয়োগপত্র না পেয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তামান্না লেখেন, ‘জন্মই আমার আজন্ম পাপ! আমি এ রাষ্ট্রযন্ত্রকে ধিক্কার জানাই! এ যেনো কষ্ট করে পাওয়া চাকুরি টাকে ছিনিয়ে নেওয়া, এ যেনো মায়ের কোল থেকে একটা সন্তানকে ছিন্তাই করা!’
তামান্না লেখেন, ‘প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক নিয়োগ -২০২৫ এ আমি চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলাম। আমার একাডেমিক সকল সার্টিফিকেট ভালো। বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ এর ইংরেজি বিভাগ থেকে অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস এবং ডিপার্টমেন্টে সেকেন্ড ও সরকারি তোলারাম কলেজ, নারায়নগঞ্জ থেকে ফার্স্ট ক্লাস এবং ডিপার্টমেন্টে ফার্স্ট হয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি। প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এ লিখিত ও ভাইবা পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে আমার উপজেলায় চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ থানার মেরিটে লিষ্টে-১ম স্থান ও সমগ্র চাঁদপুর জেলায় ১১ তম হই।’
তিনি আরও লেখেন, ‘কিন্তু গতকাল ২৪ সেপ্টেম্বর আমার নামে কোনো নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি কারন পুলিশ/এনএসআই ভ্যারিফিকেশনে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্তভাবে সকল ধাপে উত্তীর্ণ হয়ে দীর্ঘ ৮ মাস অপেক্ষার পর পলিটিক্যাল ট্যাগ দিয়ে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যেখানে আমি কিংবা আমার পরিবার কোনোকালে রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলাম না।’
তামান্না বলেন, ‘যে দেশে মেধার মূল্যায়ন হয়না, আমি সে দেশকে তার মেধাবী দের সহ ধ্বংস কামনা করি।’