রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ৯ লাখ টাকায় আপস-মীমাংসা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ঘটনায় জড়িত কিশোরের পক্ষে তার আইনজীবী আলমগীর হোসেন শিশু আদালতে এমন একটি আপসনামা জমা দিয়েছেন। এ বিষয়ে দুপুরে শুনানি হবে বলে জানা গেছে।
আপসনামায় উল্লেখ করা হয়, যেহেতু পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পূর্বশত্রুতা ছিল না এবং ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত একটি দুর্ঘটনা, তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় উভয়পক্ষের ভবিষ্যৎ মঙ্গল কামনায় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নিকট আত্মীয়দের মধ্যস্ততায় বিরোধ নিষ্পত্তি ও আপস-মীমাংসা করা হলো।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, মৃত মেহেদী হাসানের দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নে প্রথম পক্ষ সহায়তা হিসেবে তাৎক্ষণিক নগদ ১ লাখ টাকা দেয়। পরে আরও ৮ লাখ দেওয়া হয়। মোট ৯ লাখ টাকায় মেহেদীর পরিবার আপস করে।
অঙ্গীকার অনুযায়ী মেহেদীর পরিবার মামলা প্রত্যাহারে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে উল্লেখ করা হয় আপসনামায়।
গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে বারিধারার ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে একটি গাড়ি ফুটপাতে উঠে চাপা দিয়েছিল নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানকে (২৪)। তিনি ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।
হঠাৎ গাড়িটি তাকে চাপা দিলে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে গাড়ির নিচ থেকে মেহেদীকে রক্তাক্ত অবস্থায় বের করে আনেন। তাকে সঙ্গে সঙ্গে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলেও বাঁচানো যায়নি।
নিহত মেহেদীর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।
মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর দুজন নেমে আসেন গাড়ি থেকে। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে একজনকে আটক করে পুলিশে দেন। তখন আটক কিশোরকে গুলশান পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় নিহত মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, গাড়িটির চালক আকাশ মারক (৪৪) বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে তার মাথা, বুক ও পিঠে গুরুতর জখম হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মেহেদী হাসানকে (২৪) চাপা দেওয়া প্রাইভেট কারটির চালকের আসনে ছিল ওই কিশোর।
এদিকে মামলায় নাম না থাকায় হেফাজতে নেওয়া কিশোরকে গতকাল রাতে ছেড়ে দেয় পুলিশ। কারণ হিসেবে গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন জানিয়েছিলেন, এ ঘটনায় নিহত মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম যে মামলা করেছেন, তাতে আসামির তালিকায় ওই কিশোরের নাম নেই বলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে ব্যাপক সমালোচনার পর গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ওই কিশোরকে আবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গুলশান থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোর ঢাকার গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন। আর দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।