দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামিন শুনানির সময় নিজেকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিতে আইনজীবীকে বললেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল ইসলামের আদালতে তাকে হাজির করা হয়। মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে হাজতখানা থেকে তাকে আদালতে আনা হয়। শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নজরুল তার এক আইনজীবীকে ডেকে বলেন, ‘সে তো বীর মুক্তিযোদ্ধার কথা বলেনি।’
এরপর আইনজীবী মাহবুবুর রহমান আদালতে বলেন, ‘নজরুল ইসলাম একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি রাষ্ট্রের একজন আইনপ্রণেতা। ৭৫ বছরের একজন বয়স্ক মানুষ। একটা ঘটনা ঘটে গেছে। তিনি একজন হার্টের রোগী। তিনি পালানোর লোক নন। তাকে জামিন দিন। তিনি যেকোনো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছেন।’
রাষ্ট্রপক্ষের পিপি ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘ওনারা জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের নেতারা বলেন, সৎ লোকের শাসন। এটা তার সেই নমুনা।’
তিনি আরও বলেন, ‘মরিয়মের মৃত্যুর পর সেখানে সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। কেন সে মারা গেল, সেখানে তা পাওয়া গেছে। চিঠিতে আছে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। এজন্য তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। আইন সবার জন্য সমান। তার সর্বোচ্চ রিমান্ড দাবি করছি।’
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
এজাহারে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি চিরকুট উদ্ধারের কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। গত জুলাইয়ে মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
সময়ের আলো