Image description

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায় পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে থাকা বাবাকে খাবার দিতে গিয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তার চাহিদা অনুযায়ী ঘুসের টাকা দিতে না পারায় তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মারধরে তার বাম পা ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করেছেন আরমান হোসেন (২৫)। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আড়াইহাজার থানায় এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন। তার দাবি, আরমানকে তিনি আগে থেকে চেনেন না এবং তার কাছে কোনো ঘুস চাননি তিনি।

আহত আরমান হোসেন আড়াইহাজার উপজেলার গহরদী এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি বলেন, থানায় টাকার জন্য আমাকে মেরে পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।

আরমান হোসেন জানান, তার বাবা আনোয়ার হোসেন একটি হত্যা মামলার আসামি। প্রায় ১০-১২ দিন আগে তার বাবাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে কোর্টে চালান দেওয়া হয়। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আড়াইহাজার থানায় নিয়ে যান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিন। ওইদিন দুপুর ২টার দিকে বাবাকে খাবার দিতে আড়াইহাজার থানায় যান আরমান। এ সময় এসআই রুহুল আমিন তার কাছে টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করে আরমান।

আরমান আরও জানান- তার বাবাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আড়াইহাজারে নিয়ে আসতে গাড়ি ভাড়া ও খাবার খাওয়াতে খরচ হয়েছে, এজন্য তার কাছে ২ হাজার টাকা দাবি করেন এসআই রুহুল আমিন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করায় এসআই রুহুল আমিন তার দুই গালে বেশ কয়েকটি চর মারেন এবং তাকে থানার গেটের সামনে দাঁড়াতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পরই কয়েকজন যুবক এসে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে তার বাম পা ভেঙে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, এবং সেখান থেকে তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আরমানের পরিবার অভিযোগ করেন, একই মামলায় দেলোয়ার আটক হওয়ার পর তার স্বজনদের কাছে বিভিন্নভাবে টাকা দাবি করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিন দেলোয়ারের স্বজনদের কাছ থেকে তিন দফায় মোট ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। 

 
 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই রুহুল আমিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি আরমানকে আগে থেকে দেখিনি, চিনিও না। কে মারছে বা কারা মারছে, তা থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই জানা যাবে। তিনি আহত হওয়ার পর আমি তাকে দেখেছি। আর তার কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগও মিথ্যা। আমি কোনোভাবেই তার কাছে টাকা চাইনি।

আড়াইহাজার থানার ওসি সবজেল হোসেন জানান, তার বাবাকে একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আর তাকে মারধর করা হয়েছে থানার বাইরে। কারণ পুরো থানা কম্পাউন্ড সিসি ক্যামেরা রয়েছে। তাকে যদি পুলিশ মারধর করতো তাহলে সিসি ক্যামেরায় সেটা আসতো। তবে গতকাল জাহাঙ্গীর নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মী ও সাবেক কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাকে গ্রেফতারের পর থানায় তার সমর্থক অনেক নারী-পুরুষ জড়ো হয়েছিল। তারা মিছিল করতে পারে এমন আশঙ্কায় সরকারি দল সমর্থক নেতাকর্মীরা থানায় ভিড় করেছিল। সেখানে কিছু ঘটেছে কিনা সেটা আমরা বুঝতে পারছি না। তবে আহত যুবক থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।