ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীম উদ্দীন হলে প্রথমবারের মতো হলের আনুষ্ঠানিক গেট নির্মাণ করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম এবং হল সংসদের নেতৃবৃন্দ গেটটির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে জসীম উদ্দীন হল সংসদের ভিপি ওসমান গনি বলেন, ‘হলের সম্মানিত প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। বারবার ফোন দেওয়ার পরও তারা কোনো রেসপন্স করেননি। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ ৫০ বছরেও এই হলে কোনো গেট ছিল না। আমরা বাইরে থেকে স্পন্সর এনে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এই গেট স্থাপন করেছি। প্রশাসন ধরে নিয়েছে যেহেতু হল সংসদ ও ডাকসু মিলে এই কাজ করেছে, তাই তাদের আসা উচিত হবে না। ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর জানা উচিত, প্রশাসনের একটি অংশ হয়েও ডাকসু এবং হল সংসদকে কীভাবে ইগনোর করা হয়।’
এসময় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘৫০ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অথর্ব প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পরিচয় দেওয়ার জন্য একটি গেট স্থাপন করতে পারেনি। বাধ্য হয়ে আমাদের এই কাজ করতে হয়েছে। মাত্র এক বছরে হল সংসদ দেখিয়েছে কীভাবে ইশতেহারের বাইরের কাজও বাস্তবায়ন করতে হয়।’
ছাত্রদলের সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা গড়ার কাজ করব আর তোমরা ভাঙবে। সম্প্রতি একাত্তর হলে আমাদের গেমস রুমের নামফলক তারা ভেঙেছে। জাহাঙ্গীরনগরে মেডিকেলের আধুনিকায়নের পর সেখানেও তারা ভাঙচুর চালিয়েছে। তাদের কাজ ভাঙা, আর আমাদের কাজ গড়া। বিগত ৫৫ বছর ধরে বাংলাদেশের লিডারশিপ এই ভাঙার কাজেই জড়িত ছিল। আমরা মাত্র এক বছর সময় পেয়েছি এবং গড়ে দেখিয়েছি।’
ডাকসুর এক বছরের অর্জনের কথা তুলে ধরে সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের আবাসিক, একাডেমিক ও আইনি সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি জিমনেসিয়াম, রিডিং রুমে এসি ও মসজিদে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেছি। জব ফেয়ারের মাধ্যমে ৪০০ এর বেশি শিক্ষার্থীর চাকরির ব্যবস্থা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কেউ চেয়ার আঁকড়ে থাকতে চাই না। দ্রুত সময়ের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করার জন্য আমি বারবার ভিসি মহোদয়কে বলেছি। তবে আমরা আশঙ্কা করছি, বিগত বিএনপি সরকার যেমন নব্বইয়ের পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে গণরুম-গেস্টরুম কালচার তৈরি করেছিল, তার প্রতিচ্ছবি এখন আবার দেখা যাচ্ছে।’