Image description
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশে দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলে বিপিসির প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
 
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বিপিসি চেয়ারম্যান।
 
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয় বেড়েছে। ফলে আগের দামে তেল বিক্রি করে বিপিসিকে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
 
সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
 
এর আগে, ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হতো।
 
বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের বাজারের দাম সমন্বয় না করলে প্রতিষ্ঠানের লোকসান আরও বাড়বে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
 
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাবে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
 
এর আগে, চলতি বছরের এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। একই সময়ে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দামও বাড়ানো হয়েছিল। পরে জুনে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল।