লক্ষ্মীপুরে মেঘনায় অন্য প্রজাতির মাছের দাম তুলনামূলক কম থাকলেও ইলিশের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সিন্ডিকেট, দাদন ব্যবসা ও প্রতিবেশী দেশে পাচার হয়ে যাওয়ার কারণে বাজারে ইলিশের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে মাছটি। গতবারের চেয়ে ঘাটে কেজিপ্রতি ইলিশের দাম বেড়ে এখন দুই থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দাম কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
এদিকে মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। সরবরাহ বাড়লেই দাম কমে যাবে। পাশাপাশি প্রকৃতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মাছের সংকট রয়েছে। তাও চলতি মাসের শেষে ভালো পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করছে মৎস্য বিভাগ।
মৎস্য বিভাগ ও জেলেরা জানিয়েছে, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। এ সময় জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ার কথা। কিন্তু এবার সে অনুপাতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলেদের অভিযোগ, অন্য প্রজাতির মাছের দাম তুলনামূলক কম থাকলেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে ইলিশের দাম। কিন্তু কেন এতো দাম, তার উত্তর নেই কারো কাছে। তবে বছরে প্রায় অর্ধেক সময় নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে। এ সুযোগে ভারতীয় জেলেরা নদীতে দাপিয়ে মাছ শিকার করছে।
এ ছাড়া একটি চক্র সিন্ডিকেট তৈরি করে বাজারে মাছের সংকট দেখিয়ে কয়েকগুণ দাম বাড়াচ্ছে। আবার ঘাটে দাদন ব্যবসার কারণেও ইলিশের দাম বাড়তে পারে। জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়াতেও, মাছের দাম বাড়ছে। জেলায় প্রায় ৫৩ হাজার জেলে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু মাছের দাম বাড়লেও তারা সে অনুপাতে দাম পাচ্ছে না। আর এর পেছনে সিন্ডিকেট ও দাদন ব্যবসাকে দুষছেন জেলেরা। দ্রুত সিন্ডিকেট ও দাদনমুক্ত করে জেলেদের নিরাপদে মাছ শিকারে জোর দেওয়ার দাবি তাদের।
ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানিয়েছেন, প্রতিনিয়ত বাড়ছে ইলিশের দাম। অন্য মাছের দাম না বাড়লেও ইলিশের দাম বেড়েই চলেছে। গত বছর এ সময়ে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হত এক হাজার থেকে ১১০০ টাকায়। কিন্তু এবার সে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে তিন হাজার টাকায়। গত বছরের চেয়ে যা প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। কিন্তু, অন্য সাইজের ইলিশের দাম সেভাবে বাড়েনি। এখন ইলিশের ভরা মৌসুম হওয়া সত্ত্বেও জেলেরা নদী থেকে মাছ না পেয়ে খালি হাতে ফিরছে।
ইলিশের দাম কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। তাদের অভিযোগ, একটি চক্র সিন্ডিকেট তৈরি করে মাছের সংকট সৃষ্টি করছে। পরে বাজারে কয়েকগুণ দাম বাড়িয়ে তা বিক্রি করছে। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশে পাচার করার কারণেও মাছের সংকট তৈরি হচ্ছে। পাচার বন্ধ না হলে কোনোভাবেই ইলিশের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আসবেনা বলে মনে করেন তারা।
এদিকে মজুচৌধুরীহাটের জেলে তোফায়েল আহমদ এবং নুরু মাঝিসহ অনেক জেলে বলছেন, মাছের দাম বাড়লেও জেলেরা ন্যায্য দাম পান না। কারণ দাদন নিয়ে জাল-নৌকা কিনতে হচ্ছে। ফলে সারাদিন রৌদ-বৃষ্টিতে পুড়ে মাছ শিকার করে ঘাটে আনার পর ভালো মাছের দাম উঠলেও, দাদন নেওয়ায় সেখানে বিক্রির একটা অংশ চলে যায়। করার কিছুই থাকেনা। আবার তেলের দাম বাড়ার কারণে, নদীতে মাছ না পাওয়ার কারণে দাম বাড়ে। কিন্তু দাম বাড়লে কি হবে, সেটা তো জেলেরা পাচ্ছেনা। এদিকে এখন ভরা মৌসুম। মাছ একদম কম। কবে নাগাদ ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে সে আশায় রয়েছি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ থাকায় দাম বেশি। সরবরাহ বাড়লেই দাম কমে যাবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মাছের সংকট রয়েছে। এখন প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে নদীতে পানি বাড়তে শুরু করায় ইলিশ ধরা পড়ার আশা মৎস্য বিভাগের। তবে, সিন্ডিকেটের বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।