২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপদে থাকা মানুষের সহায়তায় সরকার যখন আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছিল, তখন সেই সংকটকেই কাজে লাগানোর অভিযোগ উঠেছে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, গরিব ও অসহায় শ্রমিক, কৃষক, রিকশাচালক, নাপিত, টেইলারসহ নিম্নআয়ের মানুষের কাছ থেকে করোনা প্রণোদনা বা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি সংগ্রহ করা হয়।
পরে তাদের ব্যবসায়ী সাজিয়ে ব্যাংক হিসাব খোলানো হয় এবং ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বা টার্ম ঋণের নামে অর্থ বের করে নেওয়া হয়। এ ধরনের অভিযোগে ১৯টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব ঋণের অর্থের পরিমাণ ১৩৪ কোটি টাকার বেশি।
বৈশ্বিক করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তখন ক্ষতিগ্রস্ত ও নিম্নআয়ের প্রায় ৫০ লাখ পরিবারকে মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সে সময় সাধারণ মানুষের আর্থিক দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে তাদের পরিচয় ব্যবহার করে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ১৩৪ কোটি ৫৮ লাখ ৫ হাজার ও ৩১ কোটি ৬৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া হয়। পরে জাল কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে এসব ঋণের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
তবে করোনাকালীন সহায়তার নামে নিম্নআয়ের মানুষকে ব্যবহার করার অভিযোগই জাবেদকে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের একমাত্র চিত্র নয়। দুদকের অনুসন্ধানে তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও আত্মীয়দের ব্যবসায়ী সাজিয়ে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। এসব অভিযোগে জাবেদ ও তার স্ত্রী ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমিলা জামানের বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করেছে দুদক। বিদেশে জব্দ করা হয়েছে জাবেদের সম্পদ।
গরিব মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ প্রসঙ্গে দুদকের নথিতে দাবি করা হয়, এসব ঋণের ক্ষেত্রে হিসাব খোলার দুই থেকে তিন মাস আগে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা হয়। এরপর ভুয়া পরিচয়ে ব্যাংক হিসাব খোলার কয়েকদিনের মধ্যেই ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা ঋণের আবেদন করা হয়। বাস্তবে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব না থাকলেও এক থেকে দুদিনের মধ্যে ভুয়া পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করে ঋণপ্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।
প্রধান কার্যালয়ের ক্রেডিট বিভাগ যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়াই শাখার প্রস্তাব পরিচালনা পর্ষদের কাছে উপস্থাপন এবং পর্ষদও যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই তা অনুমোদন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঋণ অনুমোদনের পর শুরু হতো অর্থ সরানোর আরেক ধাপ। গ্রাহকের আবেদন অনুযায়ী ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে পে-অর্ডার ইস্যু করা হতো। পরে শাখার পার্কিং বা সেটেলমেন্ট হিসাবে পে-অর্ডার নগদায়ন করে পুনরায় পে-অর্ডার ইস্যু করা এবং অন্য শাখার হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে। কয়েক দফা হিসাব পরিবর্তনের পর চট্টগ্রামের জুবিলী রোড ও আগ্রাবাদ শাখা থেকে নগদে অর্থ তুলে নেওয়া হতো।
এরপর অর্থের একটি অংশ দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পেয়েছে দুদক। নথিতে বলা হয়েছে, নগদে উত্তোলনের পর হুন্ডির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে অর্থ হস্তান্তর করা হতো। সংযুক্ত আরব আমিরাতে সমপরিমাণ অর্থ দিরহামে গ্রহণ করা হতো। সেখানে ট্রেডিং ব্যবসার অর্থ হিসেবে তা ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফারের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে তথ্য এসেছে। ওই অর্থ দিয়ে বিদেশে সম্পত্তি কেনার অভিযোগও রয়েছে।
সাইফুজ্জামানের দেশে-বিদেশে পাওয়া সম্পদ শনাক্ত, ক্রোক ও অবরুদ্ধ করতে আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিদেশের সম্পদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সহায়তা পেতে এমএলএআরসহ আইনি প্রক্রিয়া চলছে।—আকতারুল ইসলাম
দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়েছিল ব্যাংক হিসাব খোলার মাত্র দুই-তিন মাস আগে। হিসাব খোলার কয়েক দিনের মধ্যেই ১৫ থেকে ২৫ কোটি টাকার ঋণের আবেদন করা হয়। প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অস্তিত্ব না থাকলেও এক-দুদিনের মধ্যে পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করে ঋণপ্রস্তাব পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।
ঋণ অনুমোদনের পর ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে পে-অর্ডার ইস্যু করে কয়েক দফা হিসাব বদলের মাধ্যমে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হতো বলে দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে আরও যত অভিযোগ
বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও ঘুস নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ২১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগে পাঁচটি মামলা করেছে দুদক। যার মধ্যে থার্মেক্স নিট ইয়ার্ন থেকে ৫২ কোটি, এইচএম শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে ৫৫ কোটি, ওয়েল মার্ট থেকে ৫ কোটি, সাইফ পাওয়ারটেক ও ই-ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ৪১ কোটি ৭৫ লাখ এবং আইকনএক্স সার্ভিস থেকে ৬০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আরও জানা যায়, পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্টের নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি। অভিযোগ অনুযায়ী, আরামিট গ্রুপের এক কর্মকর্তাকে কাঁচামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে এ সুবিধা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা এড়িয়ে ইউসিবিএল ও আইএফআইসি ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইমিনেন্ট ট্রেডার্স, ভিশন ট্রেডিং, রিলায়েবল ট্রেডিং, প্রগ্রেসিভ ট্রেডিং, মডেল ট্রেডিং ও ক্রিসেন্ট ট্রেডার্সের নামে ছয়টি ঋণে মোট ১২৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ছয়টি মামলা হয়েছে।
এসব অভিযোগের পাশাপাশি জাবেদ, তার স্ত্রী রুকমিলা জামান ও তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্টদের দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদের পরিমাণ নিয়েও অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। সংস্থাটির অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের আদেশে ক্রোক, জব্দ বা অবরুদ্ধের আওতায় এসেছে।
জানতে চাইলে দুদকের উপপরিচালক ও মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, সাইফুজ্জামানের দেশে-বিদেশে পাওয়া সম্পদ শনাক্ত, ক্রোক ও অবরুদ্ধ করতে আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিদেশের সম্পদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সহায়তা পেতে এমএলএআরসহ (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট) আইনি প্রক্রিয়া চলছে। অনুসন্ধানে নতুন সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলে সেগুলোর বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশেও জাবেদের সম্পদের বিস্তৃত তালিকা পেয়েছে দুদক। ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট, চট্টগ্রামে ১০টি ফ্ল্যাট, একটি মার্কেটের নয়টি দোকান, ২৭টি জমি এবং সাতটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য রয়েছে নথিতে। গত জুলাইয়ে গুলশানের দুটি ফ্ল্যাট ক্রোকের পর সেগুলো দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। ওই দুটি ফ্ল্যাট থেকে পোশাক, গহনা, গাড়ির চাবি, ইলেকট্রনিকস ও আসবাবসহ ২৬০ ধরনের সামগ্রী জব্দের তালিকা করা হয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, প্রায় ১৮ কোটি টাকার ফ্ল্যাট দুটি দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ২৬০ ধরনের আলামত পাওয়া গেছে।
বিদেশে সবচেয়ে বেশি সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে যুক্তরাজ্যে। কোম্পানি ও ভূমি নিবন্ধনের নথি বিশ্লেষণ করে ২০২৪ সালে ব্লুমবার্গ জাবেদ ও রুকমিলা সংশ্লিষ্ট ৩৫৮টি সম্পত্তি শনাক্ত করেছিল। পরে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি তাদের সংশ্লিষ্ট ৩৪২টি সম্পত্তি ফ্রিজ করে। পরবর্তী অনুসন্ধানে দুদক যুক্তরাজ্যে ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের তথ্য আদালতে উপস্থাপন করে।
সিঙ্গাপুরেও জাবেদ ও রুকমিলার নামে তিনটি যৌথ ব্যাংক হিসাবসহ আটটি ব্যাংক বা বিনিয়োগ হিসাব, একটি কোম্পানিতে পরিচালকের পদ এবং একটি স্থাবর সম্পত্তির তথ্য পেয়েছে দুদক। ২০১৯ সালে সেন্ট থমাস ওয়াক এলাকায় ১৬ লাখ ১২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারে কেনা একটি সম্পত্তির মালিক হিসেবেও জাবেদের নাম রয়েছে। সম্পদ হস্তান্তর বা বিক্রি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আফ্রিকা ও ইউরোপেও তার সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রায় ১৮ কোটি টাকার ফ্ল্যাট দুটি দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ২৬০ ধরনের আলামত পাওয়া গেছে।—তানজীর আহমেদ
দুদক বলছে, বিদেশে সম্পদ শনাক্ত বা আদালতের আদেশে ক্রোক করা এবং তা বাংলাদেশে ফেরত আনা এক বিষয় নয়। সম্পদের সঙ্গে অপরাধের যোগসূত্র প্রমাণের পর সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে নথি, তথ্য ও আইনি সহায়তা চাইতে হয়। প্রয়োজনে ওই দেশের আদালতেও পৃথক আইনি প্রক্রিয়া চালাতে হয়। এছাড়া সাইফুজ্জামানের সাত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছয়টি বন্ধ রয়েছে বলে দুদক সূত্র জানায়।
কালুরঘাট শিল্প এলাকার সাতটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অবস্থাও যাচাই করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। তাতে আরামিট পিএলসি আংশিক চালুর তথ্য মিলেছে। সেখানে ৫৫ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। অন্য ছয়টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সেগুলো হলো- আরামিট সিমেন্ট, আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম, আরামিট ফুটওয়্যার, আরামিট স্টিল পাইপস, আরামিট অ্যালু কম্পোজিট প্যানেলস ও আরামিট পাওয়ার। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় তিন সদস্যের রিসিভার কমিটি করার দুদকের প্রস্তাবে আদালত সায় দিয়েছে।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ অবশ্য বিদেশের সম্পদ নিয়ে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তাদের পরিবারের বিদেশে ব্যবসা দীর্ঘদিনের। বৈধ ব্যবসার আয় ও ব্যাংক ঋণের অর্থ দিয়ে বিদেশে সম্পত্তি কেনা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন।
এদিকে, গত ৭ সেপ্টেম্বর জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসার রেকর্ড-সংক্রান্ত তথ্য দুদকে পাঠিয়েছে দেশটির ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরীর আকস্মিক মৃত্যুতে উপ-নির্বাচনে বাবার আসনে এমপি হন সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। পরে দশম ও একাদশ সংসদেও আনোয়ারা আসন থেকে এমপি হন তিনি। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এর আগের পাঁচ বছর ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।
তিনি পারিবারিক শিল্প গ্রুপ ‘আরামিট গ্রুপ’ এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আরামিট শিল্প গ্রুপের অধীনে রয়েছে আরামিট পিএলসি, আরামিট সিমেন্ট পিএলসি, আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড, আরামিট পাওয়ার এবং আরামিট স্টিল পাইপস। এসব প্রতিষ্ঠান দেশের আবাসন ও নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন খাতে সক্রিয় ছিল। জাবেদের পরিবার ইউসিবি ব্যাংকের বড় অংশের শেয়ারের মালিক ছিল। তার স্ত্রী রুকমিলা জামান এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৪ সালে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিদেশে ব্যবসা ও অর্থপাচারের অভিযোগ উঠলে লন্ডনে ব্যবসা ও সম্পদ থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন তিনি। তখন তার দাবি ছিল, বিদেশে সম্পদ করার ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশ থেকে কোনো টাকা নেননি।
সেসময় সাইফুজ্জামান চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, তার বাবা ১৯৬৭ সাল থেকে লন্ডনে ব্যবসা করেছেন। তিনি নিজে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করে ১৯৯১ সাল থেকে সেখানে ব্যবসা করেছেন। এরপর তিনি লন্ডনে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন।