ক্ষুধায় কাঁদছিল সাত মাসের শিশু হুসাইন। মায়ের বুকের দুধ নেই, নেই দুধ কেনার সামর্থ্যও। অসুস্থ বাবা-মা, সংসারে উপার্জনক্ষম কেউ নেই। একমাত্র অবলম্বন বৃদ্ধা দাদি, যার সংসার কোনোরকমে চলে ভিক্ষা করে। নাতির মুখে একটু দুধ তুলে দিতে না পারার অসহায়ত্বে কাঁদছিলেন তিনিও।
খুলনার কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীফলতলা গ্রামের শিশুটির এমন অসহায়ত্বের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নজরে আসে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের। শিশুটির কষ্টের কথা জানতে পেরে তিনি তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হুসাইনের বাবা ও মা দুজনেই শারীরিকভাবে অসুস্থ। ফলে সংসারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়েছে বৃদ্ধ দাদির ওপর। ভিক্ষা করে সামান্য যে অর্থ পান, তা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের দুই বেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন। সেখানে শিশুর দুধ, চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ জোগানো ছিল প্রায় অসম্ভব।
পরিবারের ভাষ্য, মায়ের বুকের দুধ না পাওয়ায় একপর্যায়ে শিশুটিকে অনুপযুক্তভাবে লবণ পানি খাওয়ানো হচ্ছিল। পরে তার মধ্যে অপুষ্টি, ত্বকের সমস্যা ও মুখে ক্যান্ডিডিয়াসিসের উপসর্গ দেখা দেয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
শিশুটির এমন অসহায় অবস্থার খবর পেয়ে ডা. জুবাইদা রহমান জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় ফাউন্ডেশনের সদস্য ডা. এম. আর. হাসানের তত্ত্বাবধানে হুসাইন ও তার পরিবারকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসপাতালে শিশুটির চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় দুধ এবং পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে।
হাসপাতালের বিছানার পাশে নাতিকে নিয়ে বসে থাকা বৃদ্ধ দাদির চোখে তখনও দুশ্চিন্তার ছাপ। নাতির মুখের দিকে তাকিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি ভিক্ষা করে সংসার চালাই। বাচ্চাটার দুধ কেনার সামর্থ্য আমার নেই। আমি আমার নাতিটাকে বাঁচাতে চাই।’
অসহায় সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারম্যান ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট তারেক রহমান এবং ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।