Image description

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ মাওলানা মো. শফিকুর রহমান মুসলিম জাতীয়তাবাদী ছাত্রসংগঠন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদে যোগ দিয়েছেন।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি সংগঠনে যোগ দেন। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্ররাজনীতিতে নাম লেখালেন শফিকুর রহমান।

 

জুলাইয়ের পর গড়ে ওঠা জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের ছাত্রসংগঠন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। সংগঠনটির সমন্বয়ক মো. আরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মো. শফিকুর রহমানকে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্যসচিব হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলটিতে তাঁর যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসানসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

 

মো. শফিকুর রহমান বর্তমানে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। এর আগে রাজধানীর আফতাবনগর আবদুল হাফিজ তাহসিনুল কোরআন মাদরাসা থেকে ২০২২ সালে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন তিনি।

 

ভাটারা নতুন বাজার মাদরাসাতুল ফুনূন আল ইসলামিয়্যার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন মাওলানা মো. শফিকুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শফিকুর রহমান সক্রিয় থাকার কারণে চব্বিশ-পরবর্তী সময়ে ভবনমালিক মাদরাসাটি বন্ধ করতে বাধ্য করে বিদেশে পালিয়ে যান।

 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজপথে মুনাজাত করছেন মো. শফিকুর রহমান।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজপথে মুনাজাত করছেন মো. শফিকুর রহমান।

 

 

ছাত্ররাজনীতিতে যোগদান প্রসঙ্গে মাওলানা মো. শফিকুর রহমান এশিয়া পোস্টকে জানান, মুসলিম জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতি দিন দিন বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে, যা ধারণ ও লালন করে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। তাই সংগঠনটিতে যোগদানে তাকে উৎসাহিত করেছে এই আদর্শ।

 

অপরদিকে, বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে জুলাই বিপ্লবসহ বিভিন্ন সময়ে মো. শফিকুর রহমানের যথেষ্ট ত্যাগ রয়েছে বলে জানান বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ। বাংলাদেশ পুনর্গঠনে ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ করে ত্যাগী এই জুলাই যোদ্ধা বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের ভ্যানগার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মাওলানা মো. শফিকুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স-জেআরএ’ এবং ‘টেলস অব জুলাই-জুলাইয়ের কথা’ গ্রুপে সম্প্রতি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। সেখানে তার সম্পর্কে লেখা হয়েছে, তিনি সবকিছু হারিয়েছেন। জুলাই মাস যেন তার জীবনে এক অভিশপ্ত সময় হয়ে এসেছিল। ঘর নেই, আয় নেই, প্রতিষ্ঠানের দরজা বন্ধ। আর সবাই চুপ— বিপ্লবী নেতারা, যারা দিনের পর দিন বিপ্লবের গল্প শোনায়, তারা একবারও ফিরে তাকায়নি। তারা জানত, সে কী হারিয়েছে, তবু মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

 

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, এই লোকটাই রামপুরা-বনশ্রী-বাড্ডার রণাঙ্গনে সবার আগে ছিল। যখন অন্যরা নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছিল, তখন তিনি বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গুলির সামনে। কিন্তু আজ? তার জীবন থেমে গেছে। তিনি যে মাদরাসা চালাতেন, তা পুলিশ ও সরকারি বাহিনী এসে বন্ধ করে দিয়েছিল—জুলাই ২০২৪-এর সেই দুঃসহ দিনগুলোতে। এখন তার আয় নেই, খাদ্য নেই, ভবিষ্যৎ নেই। যারা বলেছিল, আমরা পাশে থাকব, তারা আজ শুধুই ছবি আর বক্তব্যের মুখোশ।