ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার চাঁদাবাজি এবং আড়তদারের ওপর হামলার প্রতিবাদে বরিশালের বৃহত্তর পাইকারী কাঁচাজারের পাইকাররা ধর্মঘটের আলটিমেটাম দিয়েছেন। হামলার বিচার না হলে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে লাগাতার ধর্মঘট পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর ভাটারখাল এলাকায় বহুমুখী সিটি পাইকারী কাঁচা বাজারে বিক্ষোভকালে এই আলটিমেটাম দেন ব্যবসায়ীরা।
হামলার শিকার বহুমুখী সিটি পাইকারী কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী মো. শাহ আলম মিয়া জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় আড়তদার এবং কর্মচারীদের ওপর হামলা করে বহিরাগতরা।
তিনি জানান, আড়াত থেকে কাঁচামাল কিনে পাশেই রাস্তা দখল করে ব্যবস্থা করেন কিছু ফড়িয়া। এ কারণে বাজার কার্যক্রম পরিচালনায় বিশৃঙ্খলা এবং ভোগান্তি হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাস্তা দখল করে ব্যবসা করা ফড়িয়াদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলেন স্থানীয় ভাটারখাল এলাকার বাসিন্দা মামুন ও তার ছেলে মুন্না। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। রোববার সকালে কাঁচা বাজারের ফড়িয়াদের রাস্তা ছেড়ে দিতে বললে ক্ষুব্ধ হন মামুন ও তার চেলে মুন্না। সকাল ১১টার দিকে তারা বহিরাগত নিয়ে এসে বাজারের সবচেয়ে পুরোনো ব্যবসায়ী শাহ আলম বাণিজ্যালয়ের মালিক শাহ আলম মিয়ার ওপর হামলা করে। তাকে মারধর করা হয়।
প্রতিবাদে দুপুরের দিকে কাঁচা বাজারের আড়তদাররা তাদের ব্যবসায়ীক কার্যক্রম বন্ধ করে বাজারে বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রতিবাদ সভা করেন। এসময় তারা ব্যবসায়ীদের ওপর হামলাকারীদের বিচারসহ বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানান। নতুবা আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কাঁচা বাজারে লাগাতার ধর্মঘটের আল্টিমেটাম দেন ব্যবসায়ীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত মামুন বেপারি বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। এর আগে তার বিরুদ্ধে ভাটারখাল এবং কেডিসি কলোনিতে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ ওঠে। জুয়া ব্যবসার কারণে তাকে এলাকার সবাই ‘রুইয়া মামুন’ নামে চেনেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুন বেপারী মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি চাঁদাবাজি করি এমন অভিযোগ কোনো আড়তদার বলতে পারবে না। আর আড়তদার শাহ আলমকে আমি বা আমার কোনো লোক মারেনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। একটা অংশ আমার দলের পদ পদবিটা খাওয়ার চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে এখানে ব্যাপক চাঁদাবাজি হতো। আমি সেটা বন্ধ করেছি। সম্প্রতি সাব্বির নামের এক ফড়িয়াকে মারধর করা হয়। এ কারণে তার অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। আমি তাকে ছাড়িয়ে এনেছি এটাই আমার অপরাধ।’
মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সম্পর্কে আমার জানা নেই। ইতোপূর্বে কেউ বিষয়টি আমাকে জানায়নি। অভিযোগের সত্যতা থাকলে আমরা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করাই আমাদের কাজ। সাধারণ মানুষের ওপরে জুলুম নির্যাতনের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স।
তিনি বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার বিষয় আছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। আমাদের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।