নাটোরের বড়াইগ্রামে শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় খাবার খেয়ে শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলার মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন শিক্ষকেরা।
তাদের বিভিন্ন ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালসহ স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে খাবার সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত বনফুল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের গাফিলতি ও যথাযথ মানের খাবার না দেওয়ার কারণেই এমনটি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আগ্রান উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ ১০ জন, চান্দাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ৮ জন, কারবালা দাখিল মাদরাসার ১১ জন, মৌখাড়া ইসলামিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ জন, মনপিরীত দাখিল মাদরাসার তিনজন এবং মাড়িয়া দাখিল মাদরাসা, গড়মাটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রামাগাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, কুরশাইট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও গাড়ফা মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদরাসার দুজন করে শিক্ষক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে এসব খাবারের প্যাকেট বাড়িতে নিয়ে গিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের খাওয়ানোর ফলে তাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে অসুস্থ শিক্ষকদের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে অনুষ্ঠানে আগত একাধিক সাংবাদিকও এই খাবার খেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
শিক্ষকরা জানান, প্রত্যেকের কাছ থেকে তিন শ টাকা করে চাঁদা নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ। এতে উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রত্যেককে সাদা ভাত, মুরগির মাংস, ডাল ও ডিমসহ প্যাকেটজাত খাবার সরবরাহ করা হয়। এই খাবার খাওয়ার পরেই অনেক শিক্ষক ও তাদের স্বজনরা বমি, পেটব্যথা ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হন।
আগ্রান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেলিম রেজা জানান, ওই খাবার খেয়ে তার বিদ্যালয়ের মোট ১০ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ একাধিক শিক্ষক বাড়িতে খাবার নিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে খেয়ে তারাও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এটি শিক্ষকদের নিজস্ব আয়োজন ছিল। কোথা থেকে কীভাবে খাবার সরবরাহ করেছেন, সেটা তারাই বলতে পারবেন।
বনফুল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক মিন্টু মিয়া বলেন, কী কারণে এমন হয়েছে বলতে পারব না। আর খাবার খেয়ে অসুস্থ হলে সবাই হওয়ার কথা।
ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, হোটেলের খাবারের মান খারাপ হওয়ায় এমনটা হতে পারে। হোটেলের পরিবেশসহ খাবারের মান খতিয়ে দেখে কোনো ত্রুটি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।