Image description

পাবনা সদরে শিশু কলি ধর্ষণ-হত্যায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামির বাড়ি ভাঙচুর করেছে কয়েকশ স্থানীয় লোক। উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নে আসামি মোস্তফা কামালের দোতালা বাড়িতে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর এই হামলা হয়।

হামলার আশঙ্কায় আগে থেকে ওই বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে তাণ্ডব সামাল দিতে না পেরে সেখান থেকে সরে যান পুলিশ সদস্যরা। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা ভাঙচুরে বাড়িটি এখন ধ্বংসস্তূপ।

গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ১০ বছরের কামরুন্নাহার কলি। ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে এলাকার একটি পরিত্যক্ত ডোবায় পাওয়া যায় তার বস্তাবন্দি মরদেহ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানায়, শিশুটিকে একটি দোকানের পেছনের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল ও ইয়াছিন আলী।

 

তাদের গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন থেকে শিশুটিকে ধষর্ণ-হত্যার আলামত পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

শিশু হত্যায় দুইজনের নাম সামনে আসার পর থেকেই এলাকায় জমতে থাকে ক্ষোভ। স্থানীয়রা মো. পারভেজ বলেন, ‘গতকাল থেকেই এখানে কয়েক গাড়ি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছিল। আজ সবাই একযোগে এসে হামলা চালালে প্রশাসন থামানোর চেষ্টা করেও পারেনি। পরে তারা সরে যায়। মোস্তফার বিরুদ্ধে যে নৃশংসতার অভিযোগ উঠেছে, তাতে কারোরই মাথা ঠিক নেই।’

তিনি ও আশপাশের আরও কয়েকজন জানালেন, আজ জুমার নামাজ শেষে মিছিল নিয়ে আসামি মোস্তফার বাড়িতে আসে কয়েকশ লোক। তারা বাড়ির দেয়াল, দরজা ও জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।

ভেতরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়, খুলে নেওয়া হয় জানালার গ্রিল। তাদের কয়েকজনের কথা, একটি ছোট বাচ্চাকে নির্যাতনের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেই আসামিদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এটি তাদের বিক্ষোভ। আসামিদের কোনো চিহ্ন এলাকায় রাখা হবে না বলে ঘোষণা দেন তারা।

 

ঘটনাটি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে মনে করেন মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডিফেন্ডার’ পাবনা জেলা শাখার সদস্য সচিব আব্দুর রব মন্টু। তিনি বলেন, ‘আইন, বিচার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থাহীনতার জায়গা থেকেই মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাও এর জন্য অনেকাংশে দায়ি। রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করতে হবে। প্রতিবাদের নামে আইন হাতে তুলে নেওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

​পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বললেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিল। বিক্ষুব্ধ জনতাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও করা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই বাড়ির মূল মালামাল আমরা আগেই সরিয়ে নিয়েছিলাম।’

আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানালেন তিনি।