বাংলাদেশের ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মতামত নেওয়া হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সিদ্ধান্ত নিজের মতো করেই নিয়েছিলেন তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনের পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন কমিটির সদস্যরা।
তদন্তে নেওয়া বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুবুল আলম জানান, আসিফ নজরুল তাকে একটি সংবাদ সম্মেলনে ডেকেছিলেন, যেখানে ক্রীড়া উপদেষ্টা নিজের সিদ্ধান্ত জানান। সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিসিবির সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শও দিয়েছিলেন।
সরকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিসিবির মতামত নিয়েছিল কি না, তদন্তকারীদের এমন প্রশ্নে সচিবের উত্তর ছিল ‘না’। তার মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসিফ নজরুলের একা নেওয়া উচিত হয়নি; বিসিবির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেই সিদ্ধান্তে যাওয়া প্রয়োজন ছিল।
সংবাদ সম্মেলনেও বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে এমন সিদ্ধান্ত ‘একজনের’ মাধ্যমে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পর নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সেই ‘একজন’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নাম উল্লেখ করেন।
বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগের সূত্রপাত হয় ভারতে মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে তৈরি পরিস্থিতির পর। এরপর বিসিবি আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ ভেন্যু, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানায়। তবে আইসিসি সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি।
তদন্ত কমিটির বর্ণনা অনুযায়ী, সরকারের পক্ষ থেকে বিসিবিকে ভারতে না যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও একই সঙ্গে আইসিসির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আইসিসি ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে জায়গা দেয়।
আসিফ নজরুল অবশ্য পরে নিজের বক্তব্যে বিশ্বকাপে না যাওয়াকে সরকারের সিদ্ধান্ত হিসেবেই উল্লেখ করেছিলেন। একই সঙ্গে বলেছিলেন, বিসিবি ও ক্রিকেটাররা কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ায় তারাও এর কৃতিত্বের দাবিদার।
তদন্ত কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের এই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে। ভবিষ্যতে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একজনের সিদ্ধান্তের বদলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা, বিসিবির স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সংকটকালীন যোগাযোগ আরও কার্যকর করা এবং খেলোয়াড়দের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।