Image description

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি আধুনিক বাজার ভবনের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় তিন বছর আগে। কিন্তু এখনো ব্যবসায়ীদের মধ্যে দোকান বরাদ্দ দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে বাজার চালু হয়নি, অব্যবহৃত পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে ভবন দুটির বিভিন্ন অংশ। ময়লা-আবর্জনায় সিঁড়ি, শৌচাগার ও ধোয়ার ঘর ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। কোথাও বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিন্ন হয়ে গেছে, কোথাও ভেঙে পড়েছে ছাদ ও ছাদের নিচের আস্তরণ।

উপজেলার হেসাখাল ও চড়িয়া বাজারে পুরোনো দোকান ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা এবং কৃষি ও অকৃষিপণ্য বাজারজাতের সুযোগ বাড়ানো। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথাও ছিল প্রকল্প প্রস্তাবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য বলছে, ‘দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালের শেষ দিকে পৃথকভাবে ভবন দুটির নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। হেসাখাল বাজারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ২ কোটি ৬২ লাখ ৭১ হাজার ৯৬৮ টাকা। চড়িয়া বাজারের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৬ লাখ ২৫ হাজার ৮৬৩ টাকা।

হেসাখাল বাজারের ভবন নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি কাজ শেষ করে। একই বছরের ২০ এপ্রিল চড়িয়া বাজারের ভবনের কাজ শেষ হয়। এরপর ভবন দুটি উপজেলা এলজিইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রকল্পের নকশা ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী, ভবন দুটির নিচতলায় বসার কথা ছিল সবজি, মাছ ও মাংসের দোকান। এসব দোকান বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে। দোতলায় থাকার কথা ছিল পোশাকসামগ্রীর দোকান। ভবন নির্মাণের পরপরই বাজার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি।

সরেজমিনে হেসাখাল ও চড়িয়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভবন দুটির বেশির ভাগ অংশ পড়ে আছে অব্যবহৃত। দোতলার দোকানগুলোর শাটারে জং ধরেছে। অনেক শাটার ঠিকমতো ওঠানো যায় না। সিঁড়ি ও শৌচাগারে জমে আছে ময়লা-আবর্জনা। দুর্গন্ধের কারণে সেখানে ওঠাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাও নষ্ট হচ্ছে। কোথাও তার ছিন্ন হয়ে পড়ে আছে, কোথাও বাতি খুলে গেছে। পানির ট্যাংক, মোটর ও পাইপও নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে।

চড়িয়া বাজার ভবনের সিঁড়ির ওপরের ছাদের নিচের আস্তরণের একটি অংশ ভেঙে পড়েছে। নিচতলায় মাছ ও সবজি বিক্রির জন্য নির্মিত ছাউনির বিভিন্ন স্থানেও দেখা গেছে ভাঙন।

চড়িয়া বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেনের ভাষ্য, বাজারে তাদের ২০ থেকে ৩০টি দোকান ছিল। ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য পুরোনো দোকান ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু প্রায় তিন বছর ধরে ভবনটি পড়ে আছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এলজিইডির প্রকৌশলীর সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন তারা। সময়মতো দোকান বরাদ্দ দিয়ে ভবন চালু করার কথা জানানো হলেও এখনো তা হয়নি।

নতুন ভবন চালু না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও। চড়িয়া বাজারের করাতকল ব্যবসায়ী জিতুর অভিযোগ, ভবনে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। নিচতলার কাঁচাবাজার, মাছ ও মাংসের দোকানের মেঝের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। ছাদের পলেস্তারাও উঠে যাচ্ছে। দারোয়ানের কক্ষের কাজ অসম্পূর্ণ। সিঁড়ির ওপরের ছাদের নিচের আস্তরণ ভেঙে পড়ে আছে। শৌচাগার ও ধোয়ার ঘরের বেসিন, বাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে।

তবে ভবন দুটি নির্মাণের পর এখন আর এলজিইডির দায়িত্বে নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী। নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুর রহমান সিকদারের ভাষ্য, এলজিইডি ভবন দুটি নির্মাণ করেছে। নির্মাণ শেষে সেগুলো উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভবন চালুর দায়িত্ব এখন উপজেলা প্রশাসনের।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেছেন, ‘বাজার দুটি পরিদর্শন করে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।’