‘ইমন বিয়ে না করলে আর কোথাও বিয়ে করব না’—এমন দাবি নিয়ে দিনাজপুরের হাকিমপুরে প্রেমিকের বাড়িতে চার দিন ধরে অবস্থান করছেন এক তরুণী। তার অভিযোগ, স্কুলজীবন থেকে নাজমুল সরকার ইমনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তুললেও এখন ইমন তাকে বিয়ে করতে চাইছেন না।
এদিকে প্রেমিকা বিয়ের দাবিতে বাড়িতে অবস্থান করছেন—এ খবর পাওয়ার পর থেকেই ইমন পলাতক বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন ইমনের বাবা ইসিম সরকার।
ঘটনাটি ঘটেছে হাকিমপুর উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের ঘাসুড়িয়া গ্রামে।
তরুণীর দাবি, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই একই কোচিংয়ে পড়ার সুবাদে ইমনের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইমন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিভিন্ন জায়গায় তারা একসঙ্গে ঘোরাফেরাও করেছেন। তবে বিয়ের কথা উঠলে ধীরে ধীরে ইমন তার সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন।
তরুণী বলেন, ‘আমি এখানে বিয়ের দাবিতে এসেছি। সে আমাকে ভালোবাসি-ভালোবাসি বলে পাগল করে ফেলেছিল। আমিও তাকে অনেক ভালোবাসি। সে আমাকে বাড়িতে আসতে বলেছিল, বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন বিয়ে করতে চাচ্ছে না।’
তিনি আরও জানান, ইমন একবার তাদের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের বিষয়ে কথা বলেছিলেন। তার বাবাকে এক বছর খরচ দেওয়ার কথা বলে মেয়েকে বাড়িতে রাখার অনুরোধও করেছিলেন। পরে ইমন নিজের বাড়িতে ফিরে আর বিয়ের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। একপর্যায়ে ফোন করে তাকে ব্লক করে দিতে বলেন এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এরপর বাধ্য হয়ে তিনি ইমনের বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছেন।
তরুণীর ভাষ্য, ‘আমি তাকে চাই, আমি তাকে বিয়ে করতে চাই। আমি অন্য কোথাও বিয়ে করব না। বিয়ে করলে ওকেই করব। এখন ওদের বাসায় আসার পর সে পালিয়ে গেছে।’
বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ইমনের বাড়িতে স্থানীয়দের ভিড় জমে। স্থানীয় যুবক সোলায়মান আলী বলেন, মেয়েটি বিয়ের দাবিতে ইমনের বাড়িতে অবস্থান করছেন শুনে তারা সেখানে যান। গিয়ে মেয়েটিকে দেখতে পেলেও ইমনকে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, তাদের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি সত্য হলে দ্রুত একটি সমাধান হওয়া উচিত।
স্থানীয় আরেক যুবক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ছেলের বাড়িতে একটি মেয়ে বিয়ের দাবিতে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে সম্পর্ক না থাকলে এভাবে কেউ কারও বাড়িতে আসবে না। বিষয়টির দ্রুত মীমাংসা হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইমনের বাবা ইসিম সরকার বলেন, হঠাৎ করে মেয়েটি বাড়িতে এসে ইমনকে ভালোবাসেন এবং তাকে চান বলে জানাচ্ছেন। তবে তার ছেলে মেয়েটিকে ভালোবাসে কি না, সে বিষয়ে তিনি জানেন না। মেয়েটির বাবা-মাও আগে কখনো তাদের বাড়িতে এসে এ বিষয়ে কিছু জানাননি।
তিনি বলেন, ‘এখন যদি তাদের মধ্যে সম্পর্ক থাকে, যদি প্রমাণ হয়, তাহলে বিয়ে হয়ে যাবে—অসুবিধা কী? কিন্তু এখন আমার ছেলেকে খুঁজেই পাচ্ছি না। দিনাজপুরে লেখাপড়া করছিল, সেখানেও ফোন দিয়েছি; সেখানেও নেই। আত্মীয়স্বজনের বাসাতেও যায়নি। কোথায় গেছে, আমি খুঁজেই পাচ্ছি না।’
খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, ইমনের বাবা তাকে বিষয়টি জানানোর পর ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটির সঙ্গে কথা বলেন। মেয়েটি তাকে ইমনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা জানান এবং ইমনই তাকে বাড়িতে আসতে বলেছিলেন বলে দাবি করেন। পরে মেয়েটির বাবা-মাকে জানানো হলে তারাও ঘটনাস্থলে আসেন।
ইউপি সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর ইমনের বাবা জানান, তার ছেলের সঙ্গে মেয়েটির সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেলে এবং ছেলে কোনো অপরাধ করে থাকলে তিনি বিয়ে দিতে আপত্তি করবেন না।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে তারা শুনেছেন। বিয়ের দাবিতে মেয়েটি ইমনের বাড়িতে অবস্থান করছেন—এমন তথ্যও পেয়েছেন তারা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঢাকাটাইমস