Image description

নওগাঁর মান্দায় নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে সংরক্ষিত নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্য সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে সরবরাহের অভিযোগে মো. আব্দুস সালাম সরকার (যুবক) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৫)। তার কাছ থেকে একাধিক সিডিআর ও বিভিন্ন মোবাইল নম্বরের সর্বশেষ লোকেশন-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে সংস্থাটি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে র‍্যাব-৫ রাজশাহী ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাব জানায়, রোববার ভোর ৫টার দিকে মান্দা উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের বিপরীতে প্রসাদপুর গ্রামের ‘সরকার কম্পিউটার ও অনলাইন পয়েন্ট’ নামের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংস্থাটির দাবি, আব্দুস সালাম ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি পরস্পর যোগসাজশে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলেন। তারা ডিজিটাল ডিভাইস, বিভিন্ন অনলাইন আইডি ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সার্ভারে অবৈধভাবে প্রবেশ করতেন। পরে সার্ভার থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে তা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সরবরাহ করা হতো।

র‍্যাব আরও জানায়, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নির্বাচন অফিসে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করার সুবাদে আব্দুস সালামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সার্ভারে প্রবেশের বিষয়ে ধারণা তৈরি হয়। পরে তিনি বিভিন্ন অনলাইন আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে এসব তথ্য সরবরাহ করতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

অভিযানের পর আব্দুস সালামের মোবাইল ফোন যাচাই করে একাধিক কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) এবং বিভিন্ন মোবাইল নম্বরের সর্বশেষ লোকেশন-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে র‍্যাব। এসব তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

র‍্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুস সালাম ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নওগাঁর মান্দা থানায় মামলা করা হয়েছে।

চক্রটির সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং তারা কী পরিমাণ নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ করেছে, তা তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

কালবেলা