Image description

চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি। তবে চুক্তিটি নবায়নের জন্য বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক চিঠি দিলেও এখনো কোনো রকম সাড়া দেয়নি ভারত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চুক্তি নবায়নে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরু করতে গত জুন মাসেই নয়াদিল্লিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয় ঢাকা।

কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও ভারত এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা টাইমসকে জানান, চুক্তিটি চূড়ান্ত করার আগে দুটি দেশের টেবিলে বসা জরুরি।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মেহেদী হাসান টাইমসকে বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত আলোচনা শুরু হওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১১ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অন কোঅপারেশন ফর ডেভেলপমেন্ট’-এ নদী অববাহিকাভিত্তিক সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়েছিল। গত ৩০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তন ও পানির চাহিদায় বড় পরিবর্তন এসেছে। ফলে শুধু একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে পানি ভাগাভাগি না করে পুরো অববাহিকা ধরে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

 

নতুন সমঝোতায় পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত বর্তমান চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই চুক্তি নবায়নের বিষয়টি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ভারতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন ও বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা ও জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েই ভারতের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের সমীকরণ তৈরি করতে চায় ঢাকা।

এই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে গঙ্গা চুক্তির ভবিষ্যৎ কী হবে এবং দুই দেশের সম্পর্কের বরফ কতটা গলবে—তা নির্ভর করছে খুব দ্রুত আলোচনার টেবিলে ভারত কীভাবে সাড়া দেয় তার ওপর।