বালু লুটপাট ঠেকাতে সুনামগঞ্জের ধোপাজান চলতি নদীতে সিসি ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি শুরু করেছে জেলা পুলিশ। ক্যামেরা সরাসরি ওসির মোবাইল ফোনে যুক্ত থাকায় রাতের আঁধারেও ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা ধরা পড়ছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বালু লুটের সঙ্গে জড়িতরা।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জের সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত ধোপাজান চলতি নদী দেশের অন্যতম বড় বালু-পাথর মহাল।
আট বছর ধরে ইজারাবিহীন পড়ে থাকায় নদীতে চলছে অবাধ বালু লুট। ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত বালু তোলায় ভেঙে গেছে বহু বসতভিটা, স্কুল, মসজিদ ও ফসলি জমি।
জানা গেছে, পরিবেশ বিপর্যয় ও স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা রক্ষায় ২০১৮ সালে বালু উত্তোলন বন্ধের আদেশ দেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এরপর থেকে মহালটি ইজারাবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকে।
এ সুযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কয়েকশ কোটি টাকার বালু লুট হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনা জানাজানি হলে তৎকালীন পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়।
এরপর গত বছরের অক্টোবরে বিআইডব্লিউটিএ লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ২১ লাখ ঘনফুট বিট বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়। অভিযোগ ওঠে, বিট বালুর নামে নদীতে ড্রেজার বসিয়ে সিলিকা বালু তোলা হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নদীপাড়ের মানুষ আন্দোলনে নামলে লিমপিডের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু রাতের আঁধারে ড্রেজারে বালু লুট নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়ায়।
ইতোমধ্যে বালু লুট ঠেকাতে অভিনব উদ্যোগ নেন পুলিশ সুপার। তার নির্দেশনায় সদর থানার ওসি রতন শেখ ধোপাজান নদীর পুলিশ চৌকিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন। ক্যামেরাটি সরাসরি ওসির মোবাইল ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত। অফিসে বসেই তিনি মনিটরিং করতে পারেন, কে ড্রেজার চালাচ্ছে, কে নৌকায় বালু তুলছে। ক্যামেরায় ধরা পড়লেই তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন আমার দেশকে বলেন, সুনামগঞ্জে বালু লুটের ঘটনায় ৬৬টি মামলায় ৭৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
৬০ জনকে হাতেনাতে ধরা হয়েছে। আসামিরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে গেছে।
নদীতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হলে সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান পরিচালনা করতে হবে।