সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর দেশের অন্যতম পরিচিত প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র।
সাদা পাথর, স্বচ্ছ পানির প্রবাহ আর চারপাশের পাহাড়ি প্রকৃতির টানে প্রতিদিনই এখানে ভিড় করেন দেশ-বিদেশের পর্যটক। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সাদাপাথরের চেনা দৃশ্য। পর্যটনকেন্দ্রটির বিভিন্ন অংশে কমে যাচ্ছে পাথরের সংখ্যা। বিশেষ করে পূর্ব পাশের বেশ কিছু এলাকায় বড় বড় পাথর আর আগের মতো দেখা যাচ্ছে না।
২০২৫ সালে রাতের আঁধারে সাদাপাথর থেকে পাথর সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। পরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে উদ্ধার হওয়া পাথরগুলো আবার সেখানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এতে সাদাপাথর কিছুটা ফিরে পেয়েছিল তার স্বাভাবিক চেহারা। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানেই আবারও পাথর সরানোর অভিযোগ উঠেছে। এবার অভিযোগের তীর সাদাপাথরের পূর্ব পাশের দিকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটক ও নজরদারি কম থাকার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র রাতে ওই এলাকা থেকে পাথর তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে পাথর সরানো অব্যাহত থাকলে সাদাপাথরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এর পরিবেশগত ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
এলাকাটি ঘুরে দেখা গেছে, পূর্ব পাশের কয়েকটি অংশে আগের তুলনায় বড় পাথরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কোথাও কোথাও যে জায়গাগুলো একসময় পাথরে ঢাকা ছিল, এখন সেসব জায়গা অনেকটাই ফাঁকা। পাথর কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহেও। নদীর তলদেশে পাথরের বিন্যাস বদলে যাওয়ায় কয়েকটি স্থানে পানির গতিপথ ও প্রবাহের ধরনেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে যেসব জায়গা অনেকটা পাথরশূন্য, সেখানে একসময় বড় বড় পাথর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকত। তাদের ভাষ্য, পাথর সরিয়ে নেওয়ার কারণে শুধু পর্যটনকেন্দ্রটির সৌন্দর্যই কমছে না, ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে সাদাপাথরের স্বাভাবিক চরিত্রও।
পাথর উত্তোলন ও সরিয়ে নেওয়া বন্ধে আরও জোরালো নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে সাদাপাথরের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং এর পরিবেশগত ও পর্যটনমূল্য ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তবে বারবার পাথর চুরির ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে নজরদারি ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে। সাদাপাথরকে রক্ষা করতে হলে বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা। তা না হলে একসময় শুধু পাথরই হারাবে না, হারিয়ে যেতে পারে সাদাপাথরের নিজস্ব প্রাকৃতিক পরিচয়ও।
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।