সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পুরো বেঞ্চ এজলাস ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি (এসসিবিএ) মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি ওই বক্তব্যকে অপ্রাসঙ্গিক ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে বিচার বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বস্তি উচ্ছেদে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট বারের এই নেতা।
অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বার সভাপতি বলেন, হু ইজ হি হেয়ার, অ্যাটর্নি জেনারেল তিনি কে? তার বক্তব্যই অপ্রাসঙ্গিক। তিনি আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আপনারা জানেন সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীরা আমাকে ১১ বার নির্বাচিত করেছেন। আমিই তো আইনজীবীদের কথা বলব, বিচারপ্রার্থীদের কথা বলব। অ্যাটর্নি জেনারেলের কোনো কাজ আছে এখানে? তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সেক্রেটারি ছিলেন, তিনি কীভাবে আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নেন!
তিনি আরো বলেন, হাইকোর্টে এখনো অনেক বিচারপতি আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেন। প্রধান বিচারপতিকে সেসব বিচারকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনে নামবেন আইনজীবীরা। এক মাসের মধ্যে দাবি না মানলে আইনজীবীদের নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ব্যারিস্টার খোকন বলেন, সবারই একটা উদ্বেগ বিচার বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে। প্রধান বিচারপতির কাছে এসব বিষয় তুলে ধরা আমার দায়িত্ব। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির কাছে দাবিÑআপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগসহ সারা দেশের প্রত্যেকটি কোর্টকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে এবং তা আগামী এক মাসের মধ্যেই।
তিনি আরো বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বস্তি থাকবে কেন? আগামী এক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বস্তি উচ্ছেদ করতে হবে এবং আইনজীবীদের বসার জন্য, কর্মপরিবেশ তৈরির জন্য আপাতত টেম্পরারি পর্যায়ের শেড হলেও করে দিতে হবে। পরিকল্পনা নিতে হবে, এই বস্তি উচ্ছেদ করে এখানে আইনজীবীদের বসার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের জন্য চেম্বার করতে হবে, হলরুম করতে হবে।
গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনের বাদানুবাদে তার আপিল বিভাগের এজলাস ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) আইনজীবীদের কল্যাণে ও স্বার্থে কিছু কথা প্রধান বিচারপতির কাছে বলেছেন বলে দাবি করেছেন। আসলে এমন কোনো কথা মামলার প্রসিডিংয়ে হয়নি।