Image description

বরিশাল নগরের ফুটপাত ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের দখলে। আর সড়কের বড় অংশজুড়ে পার্কিং করে রাখা হচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক-কর্মচারী ও ক্রেতাদের মোটরসাইকেল-অটোরিকশা। বাকি সামান্য জায়গা দিয়েই চলছে হাজার হাজার যানবাহন। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, ওভারটেকিং, উল্টো লেনে প্রবেশের কারণে নগরীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও চালকরা।

সরেজমিন নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সদর রোড, গির্জা মহল্লা, হাসপাতাল রোড, চকবাজার, কাকলীর মোড় ও বগুড়া রোডের ফুটপাতের বড় অংশ দখল করে বসেছে ভ্রাম্যমাণ দোকান। কোথাও ফল, সবজি, পোশাক ও বিভিন্ন পণ্য নিয়ে দোকান সাজিয়ে বসেছেন তারা, আবার কোথাও ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের একাংশেও চলছে বেচাকেনা। এতে পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। ফলে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় মালিক-কর্মচারী ও ক্রেতাদের মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য যানবাহন সড়কের ওপরই রাখা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সড়কের অর্ধেকের বেশি অংশ পার্কিংয়ের দখলে চলে যাচ্ছে।

নগরীর বাসিন্দা মো. রেজা বলেন, ‘সদর রোড, গির্জা মহল্লা, হাসপাতাল রোড, চকবাজার, কাকলীর মোড় ও বগুড়া রোড সবই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। কিন্তু এসব জায়গায় গাড়ি রাখার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। ফলে সড়কের ওপরই গাড়ি রাখা হয়। একদিকে গাড়ি, অন্যদিকে ভ্রাম্যমাণ দোকান, ফুটপাত অবৈধ দখলে থাকায় বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে যানজটের অবস্থা আরও খারাপ। রোগী ওঠানো-নামানো, গাড়ি দাঁড় করানো এবং অপেক্ষমাণ যানবাহনের কারণে সড়ক আটকে থাকে। এসব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি দরকার।

দুই রিকশা চলার জায়গাও নেই : গির্জা মহল্লা ও চকবাজার এলাকার বাসিন্দা জুয়েল রানা বলেন, সড়কের বড় অংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মোটরসাইকেল দখল করে রাখে। অনেক জায়গায় পাশাপাশি দুটি রিকশা চলার মতো জায়গাও থাকে না। এর মধ্যেই ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা সড়কের ওপর পণ্য সাজিয়ে বসেন। ফলে যানজট হওয়া অবশ্যম্ভাবী।

সদর রোডের বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, ‘নগরীতে যানবাহন চলাচলে কোনো শৃঙ্খলা নেই। কে আগে যাবে, যেন সেই প্রতিযোগিতা চলছে। অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলারগুলো যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায়। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেল ওভারটেক করতে গিয়ে অনেক সময় বিপরীত লেনও বন্ধ করে দেয়। কেউ নিয়ম মানতে চায় না।

৫০ হাজারের বেশি রিকশা-অটোরিকশা : ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তাদের মতে, বরিশাল নগরীর পুরোনো এলাকার সড়কগুলোর প্রশস্ততা কম। অথচ নগরীর ধারণক্ষমতার তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। বর্তমানে নগরীতে প্রায় ৩০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং ২০ হাজার হলুদ অটোরিকশা চলাচল করছে। এর বাইরে রয়েছে প্রায় ১ হাজার পায়েচালিত রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেল।

ফলে রাস্তার জায়গা বাড়ছে না, কিন্তু প্রতিনিয়ত বাড়ছে যানবাহনের চাপ। তার ওপর সড়ক ও ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় কার্যত চলাচলের জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

এক ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অনেক চালকই ট্রাফিক আইন মানতে চান না। এক লেন ছেড়ে অন্য লেনে চলে যান। ইচ্ছামতো অলিগলিতে ঢুকে পড়েন। আবার যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা ও পার্কিং করেন।

তিনি বলেন, কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে গেলে অনেক সময় চালকরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের সঙ্গে অসহযোগিতা করেন। ট্রাফিক পুলিশের একার পক্ষে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশনকে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।

অভিযান হয়, দখল ফেরে : ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করা হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরে যায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ শাখার কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। কিন্তু কোনোভাবেই স্থায়ীভাবে দখল প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। আমরা আবারও ফুটপাত ও সড়ক দখলের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করব।