জমির নামজারি ও তা দ্রুত বাতিলের আইনগত ভিত্তি নিয়ে ফোনে প্রশ্ন তোলায় এক সাংবাদিকের বাড়িতে পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়ে তল্লাশি চালানোর অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমানের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মাদক মজুদের অজুহাত দেখিয়ে উপজেলার সবুজপাড়া গ্রামে দৈনিক মানবজমিনের রৌমারী প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম সাজুর বাড়িতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম সাজু বলেন, ‘গত ২৭ আগস্ট দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামের একটি জমির নামজারি মঞ্জুর করেন এসিল্যান্ড। তবে এর মাত্র তিন দিন পর ৩০ আগস্ট কোনো পূর্বঘোষণা, নোটিশ বা শুনানি ছাড়াই তা বাতিল করা হয়। বিধি বহির্ভূতভাবে এই বাতিল প্রক্রিয়া সম্পর্কে বুধবার সন্ধ্যায় ফোনে জানতে চাইলে এসিল্যান্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।’
এরই জের ধরে পরদিন সকালে মাদকের বাহানা তুলে সাংবাদিক সাজুর পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিতর্কিত এই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের নানা অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও ঘুষ না পেয়ে ভুল রায় প্রদান, অফিসের চেইনম্যানকে কানুনগো বানিয়ে ঘুষ বাণিজ্য এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া কাইউম আজাদ বাবুলসহ স্থানীয় একাধিক সংবাদকর্মীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং অফিসে দালালচক্র নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সাংবাদিকদের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শুধু সাংবাদিক নয়, স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের ওপরও তার স্বেচ্ছাচারিতার ছাপ রয়েছে। সম্প্রতি সেচ মৌসুমের তেল সরবরাহ নিয়ে অযৌক্তিক শর্ত দেওয়ায় কৃষকদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। এছাড়া অবৈধ ড্রেজার বন্ধের নামে মাসোহারা দাবি এবং দুপুরের পর অফিসে অনুপস্থিত থেকে সময় কাটানোর মতো গুরুতর অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগীরা।
রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী কালবেলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই। এসিল্যান্ড পুলিশ চেয়েছিল আমি দিয়েছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রৌমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট মাদকের তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে সেখান থেকে কিছু উদ্ধার হয়নি। তিনি যে সাংবাদিক, তা আমার জানা ছিল না।’