Image description

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) দেড় বছর ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেনি সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্য সকল ছাত্রসংগঠন প্রকাশ্যে রাজনীতি করলেও শিবিরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গোপন থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

দীর্ঘদিন গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার পর ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ আবর্তনের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ আয়োজনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো শাখাটির ৩ জন জনসম্মুখে আসেন। তবে সে সময় তারা নিজেদের দলীয় পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেননি। পরে নানা আলোচনার মুখে ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসেন শাখা সভাপতি মামুনুর রশিদ এবং সেক্রেটারী আব্দুল আহাদ (ফাহাদ)।

সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ডের মাধ্যমে মো. শাহ জালালকে অফিস সম্পাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে তিন সদস্যের একটি আংশিক সাংগঠনিক কমিটি প্রকাশের তথ্য জানানো হয়।

 

 

সাধারণত অন্যান্য ছাত্রসংগঠনে আংশিক কমিটি ঘোষণার পর দ্রুততম সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের রীতি থাকলেও জাবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের ক্ষেত্রে তা হয়নি। পদভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ না করায় সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কাঠামো ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে পরিচয় গোপন রেখে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক বিভিন্ন ক্লাবে নেতাকর্মীদের প্রবেশ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অযাচিত 'শিবির ট্যাগ' পড়ার বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মিনহাজ বলেছেন, ‘একজন স্টুডেন্ট অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে অনেক সময় আমাদের অনাকাঙ্ক্ষিত ‘শিবির ট্যাগ’ পেতে হয়। বিভিন্ন ক্লাব ও সামাজিক সংগঠনে শিবিরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি অস্বীকার করার উপায় নেই। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যেখানে মুক্ত রাজনীতিতে কোনো বাধা নেই, সেখানে পরিচয় গোপন রেখে কার্যক্রম পরিচালনা অনুচিত। 

শিবিরের সকল পর্যায়ের কর্মী ও সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাদেরকে আহ্বান জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

 

জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব যীনাত মিয়া আজিজুল বললেন, ‘বিগত দিনে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করেছে এবং ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে। গুপ্ত রাজনীতির আড়ালে ‘রাজনীতি নিষিদ্ধ’ স্লোগান, মব ও অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাম ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে লুকিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ আর নেই। তাদের আহ্বান জানাচ্ছি, গুপ্ত রাজনীতির প্রথা বাদ দিয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রকাশ্যে আসার জন্য। অন্যথায় গুপ্ত কার্যক্রমের জবাব সাধারণ শিক্ষার্থীরাই গণতান্ত্রিক ও ঐক্যবদ্ধভাবে দেবে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মামুনুর রশিদ বলেছেন, ‘আমাদের আগে থেকেই একটি কমিটি ছিল। সেটি ১ ফেব্রুয়ারি তা প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা পরে প্রকাশ্যে এসেছি—এটা বলা ভুল। আমাদের কমিটি দেরিতে এসেছে। গণঅভ্যুত্থানের সময়ই রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল, সেটি এখনো বহাল আছে। তাই কেন্দ্রীয় কমিটি থেকেই ওই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের কমিটি এখনো আসেনি। আমরা উন্মুক্তই ছিলাম। প্রশাসনের কাছে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই আমরা কমিটি প্রকাশ করব। তবে সেটি কবে করা হবে, তা চূড়ান্তভাবে বলতে পারছি না।’

ক্যাম্পাসে শিবিরের জনশক্তি কতজন জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘এটা আমাকেও হিসোব করতে হবে, আপনাকে কিভাবে বলি। জনশক্তিদের তালিকায় নিয়ে আসা বা প্রকাশ করার সুযোগ নেই। আমাদের কমপক্ষে সদস্য, সাথী ও কর্মী মিলিয়ে ২০০ থেকে ৩০০ জনশক্তি রয়েছে। আমাদের দুটি বিভাগ—সম্পাদকীয় ও মানোন্নয়ন। সম্পাদকীয় কমিটির বাকি অংশের প্রক্রিয়া চলমান।’