Image description

বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম পে-স্কেলের আওতায় আসছেন। তবে তাদের নতুন বেতন কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করে পৃথকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। কেননা সংস্থাটির মাধ্যমেই শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সারসংক্ষেপ সংগ্রহ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষকদের পে-স্কেলের পৃথক গেজেটের বিষয়টি নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস কথা বলেছে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, ‘নতুন পে-স্কেলে শিক্ষকদের বেতন দিতে সারসংক্ষেপ চাওয়ার কোনো নির্দেশনা এখনো পাইনি। নির্দেশনা পাওয়ার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি কাজ শুরু করা হবে।’

নির্দেশনা পাওয়ার পর কতদিনের মধ্যে বেতনের সারসংক্ষেপ জমা দেওয়া হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সোহেল আরও বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষকদের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীসহ আমরা সবাই আন্তরিক। কতদিনের মধ্যে জমা দিতে পারব তা বলতে পারছি না। তবে কোনো কালক্ষেপন করা হবে না। নির্দেশনা পাওয়ার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে সারসংক্ষেপ তৈরি করে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

এদিকে নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট জারির পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাউশিকে একটি চিঠি পাঠানো হবে। চিঠিতে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী এমপিওভুক্ত জনবলের বেতন-ভাতা দিতে কত টাকা প্রয়োজন হবে সে বিষয়টি জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ তৈরি করবে মাউশি। দ্বিতীয় ধাপে এই সারসংক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তৃতীয় ধাপে মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগ অর্থা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে পৃথক দুটি চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মূলত শিক্ষকদের নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন ছাড়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সম্মতি চাওয়ার জন্য এ চিঠি পাঠানো হবে।

চতুর্থ বা শেষ ধাপে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সম্মতি দিয়ে দুই বিভাগে চিঠি পাঠানো হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়ার পরপরই শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা পে-স্কেলের গেজেটের অপেক্ষায় রয়েছি। গেজেট জারির পর দ্রুত সময়ের মধ্যে মাউশিকে চিঠি পাঠানো হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতি দিলে দ্রুত গেজেট জারি করে শিক্ষকদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে।’ 

শিক্ষক-কর্মচারীদের কার বেতন কত বাড়ছে
বর্তমানে চতুর্থ গ্রেডের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদের বেসিক ৫০ হাজার টাকা। নতুন পে-স্কেলে এটি বেড়ে হবে ১ লাখ টাকা।

৬ষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের মূল বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা। নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন বেড়ে হবে ৭১ হাজার টাকা।

৭ম গ্রেডের উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের মূল বেতন ২৯ হাজার টাকা। যা বেড়ে হবে ৫৮ হাজার টাকা।

৯ম গ্রেডে কর্মরত প্রভাষকদের মূল বেতন ২২ হাজার টাকা। নতুন বেতন কাঠামোয় যা বেড়ে হবে ৪৪ হাজার টাকা।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে যাদের বিএড ডিগ্রি রয়েছে তারা ১০ম গ্রেডে বেতন পেয়ে থাকেন। ১০ম গ্রেডের বেসিক ১৬ হাজার টাকা। যা বেড়ে হবে ৩২ হাজার টাকা।

১১তম গ্রেডের সহকারী শিক্ষকদের মূল বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা। যা বেড়ে হবে ২৫ হাজার টাকা। 

১৬তম গ্রেডের জুনিয়র শিক্ষক, অফিস সহকারী বা হিসাব সহকারী কিংবা কম্পিউটার অপারেটরদের মূল বেতন ৯ হাজার ৩০০ টাকা। যা বেড়ে হবে ২১ হাজার ৯০০ টাকা।

১৮তম গ্রেডের ল্যাব সহকারীদে মূল বেতন ৮ হাজার ৮০০ টাকা। যা বেড়ে হবে ২১ হাজার টাকা।

২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়াদের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা পর্যন্ত। যা বেড়ে হবে ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত।